আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাবিত ৫০টি প্রতীক থেকে কোনোটি গ্রহণ না করে ‘শাপলা’ প্রতীকের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কমিশন আগামীকাল (৭ অক্টোবর) পর্যন্ত বিকল্প প্রতীক বেছে নেওয়ার সময় দিলেও, দলটি জানিয়ে দিয়েছে—তারা আবারও ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়ে আবেদন করবে।
৩৬ নিউজকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদী বলেন, ‘আইনগত কোনো বাধা না থাকলেও শাপলা প্রতীক বাদ দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। এটি যদি সত্যি হয়, আমরা রাজনৈতিকভাবেই এর মোকাবিলা করব।’
এছাড়া দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, ‘ইসির দেওয়া প্রতীক তালিকা থেকে আমরা কোনোটি নেব না। আগামীকাল আবারও শাপলা প্রতীক চেয়ে কমিশনে চিঠি দেব।’
এর আগে এনসিপি নিবন্ধনের আবেদনপত্রে ‘শাপলা’, ‘কলম’ ও ‘মোবাইল ফোন’ প্রতীক প্রস্তাব করে। পরে সংশোধন করে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ চায় দলটি। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় এসব প্রতীক না থাকায় ইসি আবেদনটি বাতিল করে দেয়।
ইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর ৯(১) ধারা অনুসারে নিবন্ধিত দলগুলোকে নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নিতে হয়। সেখানে ‘শাপলা’ প্রতীক না থাকায় এনসিপিকে বিকল্প প্রতীক নিতে বলা হয়।
কমিশনের তালিকায় থাকা প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে—খাট, থালা, বালতি, কাপ-পিরিচ, কলম, মোবাইল ফোন, টেবিল, হাঁস, হেলিকপ্টার, টিউবওয়েল, ফুটবল, শঙ্খ, মাইক, সোফা, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক পাখা ইত্যাদি।
তবে এসব প্রতীক প্রত্যাখ্যান করে দলটি শাপলার দাবিতে অটল রয়েছে। মাওলানা আশরাফ মাহদী বলেন, ‘যে প্রতীকগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো এনসিপির মতো একটি বিপ্লবী দলের ভাবধারার সঙ্গে যায় না। আমাদেরকে ‘বুলিং’-এর মুখে ফেলার জন্যই হয়তো কমিশন এ কাজ করছে। শাপলা না দিলে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে তালিকাভুক্ত ১১৫টি প্রতীকের মধ্যে শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা—কোনোটিই নেই। তাই এই প্রতীক বরাদ্দের সুযোগ নেই।
হাআমা/
