নির্বাচনের আগেই ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

by hsnalmahmud@gmail.com

আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ‘সেফ এক্সিট’ (নিরাপদ প্রস্থান) প্রসঙ্গ। নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ঘিরে এই ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনীতি।

বিজ্ঞাপন
banner

সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, “কিছু উপদেষ্টা নিজেদের সেফ এক্সিট খুঁজছেন। অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছে, কেউ কেউ গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাও করেছে। সময় হলে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “অনেক উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন এবং নিজেদের নিরাপদ প্রস্থানের কথা ভাবছেন।”

এই মন্তব্যের পর উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, একইসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে মত দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষকরা।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “কিছু উপদেষ্টা এখন দায়সারা দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক্সিট নিতে চাইছেন। তারা দেশের মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না। পৃথিবীতে একটাই সেফ এক্সিট আছে—মৃত্যু। এর বাইরে কোনো নিরাপদ প্রস্থান নেই।”

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেন, “উপদেষ্টারা অনেকেই সেফ এক্সিট খুঁজছেন। তবে তাদের বেশি কষ্ট করতে হবে না, কারণ অধিকাংশই দ্বৈত নাগরিকত্বধারী—তারা সহজেই দেশের বাইরে চলে যেতে পারবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, “এই সেফ এক্সিট নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব শেষে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। তখনও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ‘সেফ এক্সিট’ দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও কি একই পথ খুঁজছেন?”

অন্যদিকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিপ্রায়পূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই। বিশেষ পরিস্থিতিতে তারা দায়িত্ব নিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।”

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “যাদের একাধিক দেশের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব রয়েছে, তারাই এখন অন্যদের সেফ এক্সিটের তালিকা করছে। যারা ৫ আগস্ট পালিয়েছিল, তাদের সিমপ্যাথাইজাররাই এখন কষ্টে মরে যাচ্ছে। আমরা এদেশেই জন্মেছি, এদেশেই মরব ইনশাআল্লাহ।”

অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “কে সেফ এক্সিট নিতে চায়, তা নাহিদ ইসলামকেই পরিষ্কার করতে হবে। আমি দেশের সংকটের সময় কখনো পালিয়ে যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ‘সেফ এক্সিট’ বিতর্ক কেবল ব্যক্তিগত মতবিরোধ নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222