হিন্দুত্ববাদী উগ্র সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধসহ ছয় দফা দাবিতে কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কুমিল্লা মহানগর শাখা। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর কুমিল্লা টাউন হল ময়দান থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি রাজগঞ্জ মোড়, মোগলটুলি ও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ এলাকা অতিক্রম করে পূবালী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা মহানগর সভাপতি মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী। তিনি মিছিল সফল করার জন্য ওলামায়ে কেরাম, সাংবাদিক, প্রশাসন ও তৌহিদি জনতাকে ধন্যবাদ জানান।
বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা তৈয়্যব, মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম কাসেমী, বুড়িচং সভাপতি মাওলানা জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম সেক্রেটারি মাওলানা আনিসুর রহমান আশরাফী, মুফতি ইয়াকুব, মাওলানা জামিল আশরাফী, মুফতি মোজাম্মেল হোসেন, মুফতি নাইমুল ইসলাম, মাওলানা সোলায়মান, মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল, মাওলানা আমান উল্লাহ মুন্সী, মাওলানা খলীলুর রহমান কাসেমী, মুফতি ওমর ফারুক, মাওলানা সাখাওয়াত রাহাত প্রমুখ।
ছয় দফা দাবি
সভায় হেফাজতের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী। দাবিগুলো হলো—
- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে বাংলাদেশেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করা।
- টঙ্গীর খতিব মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজীকে হুমকি ও গুম করে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
গাজীপুরে মাদরাসাছাত্রী আশা মনির ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। - বুয়েটের ছাত্র তৃষান্ত রায়কে ধর্ষণের দায়ে ফাঁসি দেওয়া।
- চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা।
- ইসকনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অজুহাত দেখানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ইসকন দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টে সক্রিয় এবং “ভারতের মদদে” বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা বলেন, ইসকনের উগ্র কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে; বাংলাদেশেও একই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, টঙ্গীর খতিব মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজীকে ইসকন সদস্যরা অপহরণ করে নির্যাতন করেছে—যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে তৌহিদি জনতা।
দোয়ার মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন হেফাজতের সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ।
হাআমা/
