আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
প্রথম আলো সংক্রান্ত একটি ইস্যুতে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন যুবককে আদালত চত্বরে পুলিশের পক্ষ থেকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের হেফাজতে থাকা হেলমেট পরিহিত এক যুবককে একজন ব্যক্তি চড় মারছেন। ঘটনাটি আদালত চত্বরে ঘটেছে বলে ভিডিওর বিবরণে দাবি করা হচ্ছে।
এ সময় গ্রেফতার হওয়া এক যুবককে বলতে শোনা যায়, “মামলার কোনো প্রমাণ নাই। শুধু শুধু হয়রানি করা হচ্ছে। তিন দিন ধরে মামলার কাগজ আসে না। আমরা কথা বললে এসআই ধরে নিয়ে মারধর করে।”
আরেক পর্যায়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওই যুবক বলেন, “শুধু ফেসবুকে নিন্দা জানিয়ে পোস্ট করেছি। এজন্য রিমান্ডও চাচ্ছে। ভেতরে নিয়ে মারে, আর বলে— এখন তো মিডিয়া নাই, এখন মারলে তোদের কে দেখবে?”
ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইনগত প্রক্রিয়া ও পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইমুম সাদী এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আদালতে একজন আলেমকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার সময় ক্যামেরার সামনেই তাঁকে থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন — জনসম্মুখে এমন আচরণ করলে হেফাজতে বা রিমান্ডে কী ঘটে তা সহজেই অনুমেয়। তিনি আরও বলেন, দাড়ি-টুপি বা মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হতে হয় — এমন একটি সামাজিক প্রবণতা বিদ্যমান।
তিনি তার লেখায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে আলেমদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে উদ্বেগজনক সামাজিক বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের আচরণ অতীতের কিছু সময়ের পুলিশি আচরণের সাথেও মিল রয়েছে।
এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাআমা/
