বাংলাদেশেই অচিরেই চালু হচ্ছে লিভার ট্রান্সপ্লান্টসহ বিশ্বমানের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসাসেবা। একইসঙ্গে প্যানক্রিয়াটিক স্টোনের আধুনিক চিকিৎসা, ক্যান্সারে অঙ্গসংরক্ষণকারী থেরাপি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির একাধিক বিশ্বমানের সেবা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটি।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির ৩১তম বার্ষিক সম্মেলনে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার রোগ চিকিৎসায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বিদেশ নির্ভরতা কমানোর রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিজনিত রোগ বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বেই একটি বড়ো জনস্বাস্থ্য সমস্যা। লিভার রোগ, পরিপাকতন্ত্রের জটিল রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস্ট্রো সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, উন্নত চিকিৎসা শুধু রাজধানী বা বড়ো শহরকেন্দ্রিক হলে চলবে না। জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিজনিত রোগের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি করা জরুরি। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সাপোর্ট স্টাফ—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনের বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে দক্ষ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞের অভাব নেই। আধুনিক যন্ত্রপাতি, সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং প্রশিক্ষণের পর চিকিৎসকদের কাজ করার সুযোগ তৈরি করা গেলে এই খাতে বিপ্লব সম্ভব। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার রোগ চিকিৎসার জন্য আর কোনো বাংলাদেশিকে বিদেশে যেতে হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মেডিকেল এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফজিলা-তুন-নেছা মালিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহছেন। সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদসহ সোসাইটির সদস্য, দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং গবেষকরা এতে অংশ নেন।
এআইএল/
