বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান শুরু হলেও ইসরাইলের কারাগারে বন্দি বহু ফিলিস্তিনি এ তথ্যই জানতেন না; এমন চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে এক আইনজীবীর বর্ণনায়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরাইলের গিলবোয়া কারাগারে আদালত শুনানিতে অংশ নেওয়া এক ফিলিস্তিনি বন্দি রমজানের শুভেচ্ছা শুনে বিস্মিত হয়ে জানতে চান, পবিত্র মাস কি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে?
ফিলিস্তিনি বন্দি ও সাবেক বন্দি বিষয়ক কমিশনের আইনজীবী খালেদ মহাজনেহ জানান, রমজানের প্রথম দিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি গিলবোয়া কারাগারের এক বন্দির আদালত শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় তিনি বন্দিকে রমজানের শুভেচ্ছা জানালে ওই ব্যক্তি অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, “আজ কি রমজান?” পরবর্তীতে তিনি জানান, রোজা শুরু হয়েছে; এ বিষয়ে তাদের কেউ অবহিত করেনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ঘটনা ইসরাইলি কারাগারগুলোতে বন্দিদের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ ও সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। আইনজীবী খালেদ মহাজনেহ অভিযোগ করেন, কারা কর্তৃপক্ষের কড়া নিয়ন্ত্রণের কারণে বন্দিরা গণমাধ্যম ও বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস সম্পর্কেও তারা অবগত হতে পারেন না।
তিনি আরও দাবি করেন, বন্দিদের ওপর বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রেও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বন্দিকে সেহরি ছাড়াই রোজা রাখতে হয়েছে এবং ইফতারের সময়ও পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
টিএইচএ/
