কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা বলেছেন, চরমোনাইয়ের একজনসহ আমরা ৭৮ জন, আর শেরপুরের একজন বাকি আছে। এই ৭৯ জন, তারা ২১২ জন সংসদ সদস্য। মসজিদের মধ্যে বসে বলছি ১০০ ভাগ চেষ্টা চলাব এই ৭৯ জন মিলে ওনাদেরকে তীরের মতো সোজা করে রাখতে। যদি এদিক-ওদিক করে আমরা চেপে ধরব। সে সংসদের ভেতরে হোক, আর সংসদের বাইরে হোক।
বক্তব্যে তিনি বলেন, চরমোনাইয়ের একজন এবং শেরপুরের একজন সদস্যসহ মোট ৭৯ জন এমপি ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকবেন। কেউ দায়িত্বে অবহেলা বা বিচ্যুতি ঘটালে সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে; উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শুরুতে সংসদের নিয়মকানুন সম্পর্কে সীমিত ধারণা ছিল উল্লেখ করে বলেন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় বইপত্রের মাধ্যমে সংবিধান, কার্যপ্রণালী ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্ব সম্পর্কে এখন অবগত হচ্ছেন।
নিজেদের বিরোধী দলে থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের বরাদ্দ সমান হলেও দক্ষতা ও কৌশলের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা আদায় করা সম্ভব। নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে জনস্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান এই সংসদ সদস্য।
তাফসির মাহফিল আয়োজন নিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে আগের মতো নিয়মিত ধর্মীয় কর্মসূচিতে সময় দেওয়া কঠিন হবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি উপলব্ধি করেছেন একজন এমপির দায়িত্ব কতটা বিস্তৃত।
সংসদীয় ব্যয়ের প্রসঙ্গে আমির হামজা বলেন, সংসদের প্রতিটি মিনিট পরিচালনায় প্রায় ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যা জনগণের অর্থ। তাই সময়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনগণের টাকার সঠিক মূল্যায়ন করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাইকিংয়ের পর ত্রিমোহনী ও মজমপুর এলাকায় চাঁদা আদায় বন্ধ হয়েছে। তবে ভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
টিএইচএ/
