গত তিন দিন ধরে চলা ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে সাফ মানা করে দিয়েছে পাকিস্তান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে চলা ‘সন্ত্রাসবাদ’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপ বা সমঝোতা হবে না। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই লড়াই এখন ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এদিকে, উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো মধ্যস্থতার আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
পাক প্রধানমন্ত্রীর বিদেশি গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জায়েদি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সংলাপ হবে না। আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো দেশের নাগরিক ও ভূখণ্ড রক্ষা করা। আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।” পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের দেশে হামলা চালানো টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) জঙ্গিরা আফগান মাটিতে আশ্রয় পাচ্ছে। যদিও কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং তারা আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে গত ২৪ ঘণ্টায় পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আফগান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের মিরানশাহ এবং স্পিনওয়াম এলাকায় পাক সামরিক ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বান্নু শহরের একটি মসজিদে ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তান টেলিভিশন দাবি করেছে, পাক বাহিনী আফগান তালেবানের বেশ কিছু অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে, তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ১২ জন সৈন্য এবং ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবান জানিয়েছে তাদের ১৩ জন যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন এবং বিপরীতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে।
টিএইচএ/
