আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ ও সাম্প্রতিক গণভোটকে ঘিরে আদালতের রুল জারির পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ তিন নেতা। তারা অভিযোগ করেন, গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া জনরায়কে আদালতে নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণভোটের বৈধতাকে আদালতে নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা চলছে। আমরা সেটা মেনে নেব না। যদি জনগণের রায়কে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, আমাদেরকেও রাজপথে যেতে হবে। আমরা জুলাইয়ের মতো স্লোগান দিতে চাই না—‘হাইকোর্ট না রাজপথ’। এই স্লোগান দিতে আমাদেরকে বাধ্য করবেন না।”
গণভোটের গণরায় অনুযায়ী দ্রুত সকল সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জনগণের রায়কে আদালতে নিয়ে আদালতকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না।”
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন জনাব তারেক রহমান। এর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করা জনগণের সমর্থন তিনি ও তার দল পেয়েছেন।
তার অভিযোগ, “এখন একদল বিএনপিপন্থী আইনজীবী আদালতকে ব্যবহার করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করাতে চাচ্ছেন। আফসোস, ক্ষমতার মোহ আমাদের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়। এই আত্মঘাতী রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে ঠেকাবে?”
তিনি আরও বলেন, “আদালতকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার নজির অতীতেও ভালো হয়নি, বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ভালো হবে না।”
এদিকে এনসিপি নেতা মাওলানা আশরাফ মাহদী বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। স্পষ্টভাবেই আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হলো।”
তিনি জানান, দলীয় আইনজীবীদের মধ্যে আদালতে শুনানি করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী কামরুল ইসলাম সজল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব গাজী তৌহিদুল ইসলাম।
মাওলানা আশরাফ মাহদী প্রশ্ন তোলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ যদি অবৈধ বা অসাংবিধানিক হয়, তবে জাতীয় নির্বাচনও কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক হবে না? সরকার দলীয় কোনো নেতা এখনো এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের শহিদেরা রক্ত দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ রচনা করেছে। জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই জনতাকে যারা হাইকোর্ট দেখাচ্ছে, তাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।”
তার ভাষ্য, “লীগ ও জাতীয় পার্টির সুরে সুর মিলিয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে জুলাইকে অস্বীকার করার বন্দোবস্ত চলছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার মতো সংসদের হাত-পা আবারও বিচারবিভাগ দিয়ে বেঁধে ফেলতে চাইলে, ফয়সালার জন্য রাজপথ অনিবার্য হয়ে উঠবে।”
হাআমা/
