আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সীমান্তে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। আফগানিস্তানের ইসলামি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর ‘রাদ-উল-জুলম’ নামক বিশেষ প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে তারা। এই অভিযানের আওতায় কান্দাহার, নানগারহার, কুনার, খোস্ত, পাক্তিয়া এবং পাক্তিকা প্রদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ চালানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারাজমি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মোট ২৮টি স্থানে শত্রুপক্ষের পোস্ট ও ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে পাকিস্তানের ১৪টি চেকপোস্ট এবং ৩টি সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আফগান বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে পাকিস্তানের ১০৯ জন সেনা নিহত এবং ১৪৮ জন আহত হয়েছেন।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অভিযান চলাকালীন ইসলামি আমিরাতের ৩ জন সদস্য এবং ৭ জন সাধারণ নাগরিক শহীদ হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষের কবলে পড়ে আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। আফগান বাহিনীর অভিযানে পাকিস্তানের ১০টিরও বেশি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ হালকা ও ভারী অস্ত্রসহ গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কাবুল। এদিকে, দুই দেশের এই সামরিক উত্তেজনা সীমান্ত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউনামা) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে পাকিস্তানের হামলায় ৫৪ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১২৯ জন আহত হয়েছেন।
চলমান এই সহিংসতা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তুরস্ক, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান এবং রাশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ উভয় পক্ষকে সামরিক সংঘাত পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: টোলো নিউজ
টিএইচএ/
