আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানী ঢাকার পল্লবী মারকাযুস সালেহীন মিলনায়তনে পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের উদ্যোগে ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মারকাযুস সালেহীন মাদরাসার পরিচালক মুফতি শোয়াইব মাহমুদ কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের দাওয়াহ সমন্বয়ক মুফতি কামরুল হাসান নেছারীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের অভিভাবক পরিষদের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিউল মাওলা (পিএসসি, এনডিসি)। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের অভিভাবক পরিষদের সদস্য ও দৈনিক নয়াদিগন্তের সিনিয়র সাব-এডিটর মাওলানা লিয়াকত আলী এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের আমির ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুফতি মুহাম্মদ জুবায়ের, মুফতি হাসিবুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান রাশাদী, মাওলানা সাকিব আল হাসান সাইফী, ডা. মিজানুর রহমান খান ও রাহুল বিশ্বাস প্রমুখ।
শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা এবং এতিম শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল মাওলা বলেন, রমজান মাসের এই দিনেই সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বদরের যুদ্ধ। বদরের এই ঐতিহাসিক স্মৃতি মুসলিম উম্মাহকে যুগে যুগে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার এবং ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রেরণা জোগায়।
প্রধান আলোচক মাওলানা লিয়াকত আলী বলেন, বদরের শিক্ষা শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের প্রেরণা। তিনি বলেন, যখন ঈমানের শক্তি, আদর্শের দৃঢ়তা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা একত্রিত হয়, তখন সংখ্যায় কম হলেও মুমিনরা বিজয়ী হয়। বর্তমান সময়েও মুসলিম সমাজকে বদরের সেই চেতনা ধারণ করে নৈতিকতা, আদর্শ ও মানবিকতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ আলোচক পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের আমির শায়খ ড. শহীদুল ইসলাম ফারুকী বলেন, বদরের যুদ্ধ আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলামের বিজয় কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে নয়, বরং ঈমান, ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার মাধ্যমে অর্জিত হয়। তিনি বলেন, আজকের মুসলিম সমাজের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকট রয়েছে। এসব মোকাবিলায় প্রয়োজন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা জাগ্রত করা। তিনি আরও বলেন, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ মানবিকতা, নৈতিকতা ও ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
হাআমা/
