লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোররাতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২০ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিশেষ করে বৈরুতের উপকূলীয় রামলা আল-বাইদা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে চালানো হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলের ‘আল-আসাফুল মাকুল’ (The Eaten Chaff) নামক বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে হিজবুল্লাহ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতের রামলা আল-বাইদা সমুদ্র সৈকতে বিমান হামলায় ৮ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ বৈরুত ও সীমান্ত এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া শত শত মানুষ ওই সৈকতে তাবু গেড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এছাড়া মাউন্ট লেবাননের আরমুন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ৩ জন এবং দক্ষিণ লেবাননের দাইর আনতার ও বুর্জ আশ-শামালি এলাকায় হামলায় আরও ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত কয়েকদিনের টানা ইসরায়েলি আগ্রাসনে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৬৩০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ৯১ জনই শিশু।
এদিকে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বুধবার এক দিনেই ইসরায়েলি ভূখণ্ড ও সীমান্ত এলাকায় ৩৮টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ১৮টি সামরিক ঘাঁটি এবং ১৩টি বসতি লক্ষ্য করে ৩১টি উন্নত মানের রকেট ও ৫টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট গোয়েন্দা ঘাঁটি এবং হাইফার দক্ষিণে নৌ-বাহিনীর বিশেষ কমান্ডো সদর দপ্তর ‘আতলিত’ ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের মেরন বিমান নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটি ও নাহারিয়া-কিরিয়াত শমোনা বসতিতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় অন্তত ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার কারণে তেল আবিবসহ মধ্য ও উত্তর ইসরায়েলে রাতভর সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজেছে। ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত হামলায় ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রকান নাসের উদ্দিন সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিনিয়ত বিমান হামলার কারণে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
