ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভাদাটি গ্রামের সন্তান মাওলানা মুফতি এহতেশামুল হক। একজন মেধাবী, প্রাজ্ঞ ও খোদাভীরু আলেম হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন মাদ্রাসায় খেদমত করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ভয়াবহ অসুস্থতা তার জীবনকে বদলে দিয়েছে।
বর্তমানে তার দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে। নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে কোনোভাবে বেঁচে আছেন তিনি। চিকিৎসার দীর্ঘ যন্ত্রণা আর ব্যয়বহুল থেরাপির কারণে আজ তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
মুফতি এহতেশামুল হকের জন্ম ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার সরিষা ইউনিয়নের ভাদাটি গ্রামে। তার পিতা মাওলানা ইয়াকুব আলী। ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তার। প্রথমে ময়মনসিংহের নান্দাইলের তশরা মাদ্রাসায় হেফজ ও প্রাথমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর কিতাব বিভাগে ভর্তি হন আগারগাঁও সেরেবাংলানগরের জামিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসায় এবং সেখানে জামাতে মিজান পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।
পরে তিনি ফেনীর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া রশিদিয়া মাদ্রাসায় উর্দু জামাত থেকে আবার পড়াশোনা শুরু করেন এবং শরহে বেকায়া পর্যন্ত সেখানেই অধ্যয়ন করেন। এরপর উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে চলে যান চট্টগ্রামের প্রখ্যাত জামিয়া মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায়। সেখানে জামাতে হেদায়া পড়েন। সর্বশেষ নাজিরহাট বড় মাদ্রাসায় জামাতে মেশকাত, দাওরায়ে হাদিস ও ইফতা সম্পন্ন করে দ্বীনি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর শেষ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি প্রথম শিক্ষকতা শুরু করেন নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর জেলার একটি মাদ্রাসায়, যা জামিয়া রশিদিয়ার শাখা প্রতিষ্ঠান। সেখানে এক বছর শিক্ষকতা করার পর চলে আসেন নিজ জেলার নান্দাইলের ঐতিহ্যবাহী তশরা মাদ্রাসায়। এখানেই দীর্ঘদিন তিনি শিক্ষকতার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ কঠিন অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে তার জীবন থমকে যায়। বর্তমানে তার দুটি কিডনিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নিয়মিত থেরাপি নিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের থেরাপির কারণে তিনি এখন আর কানেও শুনতে পান না। কথা বলতে পারেন না স্বাভাবিকভাবে। কেবল লিখে নিজের কথা বোঝাতে হয়।
চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি নিজের সহায়-সম্বল, জমিজমা সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন তার নিজের একটি ঘর ছাড়া আর কোনো সম্পদ অবশিষ্ট নেই। এদিকে তার পরিবারে রয়েছে তিনটি ছোট সন্তান, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলের বয়স মাত্র আট বছর। ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারটি আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মানবিক বিবেচনায় সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে মুফতি এহতেশামুল হকের চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যোগাযোগ ও সহায়তার জন্য, মুফতি এহতেশামুল হক, গ্রাম: ভাদাটি, পোস্ট: কুর্শিপাড়া, ইউনিয়ন: সরিষা, থানা: ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা: ময়মনসিংহ, ০১৭৯৩ ১৬৫২৮১। এ অসহায় আলেমকে প্রতিদিনই দেখতে যাচ্ছেন তার ছাত্ররা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে অটো বা সিএনজি যোগে মহেশপুর বাজার হয়ে ভাদাটি বাজারে যাওয়া যায়। এছাড়া নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে আঠারবাড়ী হয়ে অটোযোগে ভাদাটি বাজারে পৌঁছানো সম্ভব। মানবিক সহায়তা আর সহমর্মিতাই হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার আশা জাগাতে পারে একজন নিঃস্ব আলেম ও তার অসহায় পরিবারের জীবনে।
