লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউনিফিল) দায়িত্বরত ৩ ইন্দোনেশীয় সেনা নিহতের ঘটনায় জরুরি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি অধিবেশনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ওমর হাদি এই দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “আমরা ইসরায়েলের কোনো অজুহাত শুনতে চাই না; আমরা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সরাসরি তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানাই।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের পৃথক দুটি ঘটনায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষীরা নিহত হন। তবে হামলার ধরন ও উৎস নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি ও অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান জ্যঁ-পিয়েরে ল্যাক্রোইক্সের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার দক্ষিণ লেবাননের বানি হাইয়ান শহরের কাছে ইউনিফিলের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে একটি রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই শান্তিরক্ষী নিহত এবং একজন গুরুতরসহ দুজন আহত হন। এর আগে গত রবিবার আদশাইত আল-কুসাইর এলাকায় একটি কামানের গোলা বিস্ফোরণে আরও একজন ইন্দোনেশীয় সেনা নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি গোলন্দাজ বাহিনী ওই অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছিল।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তের বরাতে এই ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস ছিল না এবং বিস্ফোরণের সময় সেখানে কোনো ইসরায়েলি সেনা উপস্থিত ছিল না। তবে ইন্দোনেশিয়া এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে শোকবার্তা পাঠিয়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং লেবাননের স্থিতিশীলতায় ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, ইউনিফিলে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অবদানকারী দেশ, যাদের বর্তমানে লেবাননে ২৭০০-এর বেশি সেনা নিয়োজিত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
