দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান লড়াইয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সম্মুখযুদ্ধে অন্তত ৪৮ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সৈন্য আহত হয়েছেন বলে খোদ ইসরায়েলি সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০৯ জন ইসরায়েলি সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে তেল আবিব। হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার মুখে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমের ওপর কঠোর সামরিক সেন্সরশিপ আরোপ করেছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে না আসে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও স্থল অভিযানের মুখে নিজেদের রণকৌশলে পরিবর্তন এনেছে লেবানন সেনাবাহিনী। বুধবার লেবানন সেনাবাহিনীর কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান তোড়জোড় এবং কিছু এলাকায় অনুপ্রবেশের ফলে লেবানন সেনাবাহিনীর বেশ কিছু ইউনিট অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত কারণে সেনাবাহিনী তাদের নির্দিষ্ট কিছু অবস্থান থেকে সরিয়ে নতুন করে মোতায়েন বা ‘রি-পজিশনিং’ করছে। তবে সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে এখনো সেনাবাহিনীর একটি অংশ অবস্থান করছে এবং তারা সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষায় সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবানন সেনাবাহিনী আরও অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। গত সোমবারও দক্ষিণ লেবাননে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সেনাসদস্য নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়েও সতর্ক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী কমান্ড। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিদেশি আগ্রাসনের মুখে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলের শুরু করা এই ভয়াবহ সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।
টিএইচএ/
