মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ধারাবাহিক ও পরস্পরবিরোধী বার্তায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পাল্টে যাওয়া অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ‘থ্যাঙ্কিউ!’ লেখেন। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের সঙ্গে ‘লেনদেন ১০০ শতাংশ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তবে তারা শর্তসাপেক্ষে বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
তবে শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। কেননা ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যা দেন।
তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ভুল দাবি করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে না বলেও সতর্ক করেন।
এদিকে, শিপ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কিছু জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, যা সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়।
তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পুনরায় হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছে। এর পরপরই ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা যায়, প্রণালী অতিক্রমরত জাহাজগুলো দিক পরিবর্তন করে আগের বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি’ চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত ‘খোলা-বন্ধ’ অবস্থার অনিশ্চিত দোলাচলে রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
হাআমা/
