মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রনালী ও ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। এর জবাবে উল্টো তাকে ট্রল করেছে জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
এমনকি তারা ট্রাম্পকে ফোন বন্ধ রেখে ঘুমাতে যাওয়ার এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে (বিবি) এক সপ্তাহের জন্য ‘ব্লক’ করার পরামর্শ দিয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানে সম্ভাব্য পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় আদায় করেছে বলে তিনি দাবি করেন। আর ট্রাম্পের এই দাবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কটাক্ষপূর্ণ পোস্ট দেয় জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
পোস্টে ট্রাম্পের উদ্দেশে চারটি পরামর্শ দেওয়া হয়—১) নিজেকে অতিরিক্ত আনন্দিত দেখাবেন না। একটু নিজের সম্মান বজায় রাখুন; ২) কখনোই (জোর দিয়ে) ইরানের প্রণালীর নতুন আইনি কাঠামো নিয়ে মাথা ঘামাবেন না, আমরাই এটি ঠিক করে নেব। ৩) ফোন বন্ধ করুন, রিলাক্স করুন, আর কোনো পোস্ট নয় এবং বিবিকে (নেতানিয়াহু) এক সপ্তাহের জন্য ব্লক করে রাখুন; ৪) রাতে হালকা খাবার খান এবং শান্তিতে ঘুমান।
এর আগে, শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একের পর এক পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়েছে এবং এটি তারা আর কখনোই বন্ধ করবে না।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান আর কখনোই বিশ্বের বিরুদ্ধে এটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না।
এমনকি ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর ট্রাম্প লেখেন, শুক্রবারের দিনটি ‘বিশ্বের জন্য একটি দুর্দান্ত ও চমৎকার দিন’। মূলত ট্রাম্পের এই পোস্টের জবাবেই কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করে ইরানি দূতাবাস।
এদিকে, শনিবার ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘এক ঘণ্টায় সাতটি মিথ্যা দাবি’ করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
গালিবাফ পোস্টে সাফ জানিয়ে দেন, মার্কিন অবরোধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। তার এই বক্তব্য ট্রাম্পের দাবির ঠিক উল্টো। কারণ ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তেহরান আর কখনোই এই নৌপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না।
হা্আমা/
