জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকা সর্বশেষ হালনাগাদকে অযৌক্তিক, অকার্যকর এবং সাধারণ আফগান জনগণের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান।
ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিক ব্যবহার নীতিগত ও বিশ্লেষণগত ব্যর্থতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বারবার পুনরাবৃত্তি করা যুক্তিহীন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এর প্রকৃত প্রভাব সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৮৮ নিষেধাজ্ঞা কমিটি ইমারাতে ইসলামিয়ার চার শীর্ষ কর্মকর্তার পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করেছে। তারা হলেন—প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী এবং হেদায়াতুল্লাহ বদরী।
এই হালনাগাদে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। তবে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিকল্প নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, এসব পদক্ষেপের ক্ষতি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নয়, বরং সাধারণ আফগান জনগণের ওপর গিয়ে পড়ে। তার মতে, ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজেও প্রভাব ফেলে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে।
তিনি আরও দাবি করেন, এসব নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার। আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুজাহিদ।
অন্যদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা তালিকা ব্যবহার করে, তার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের তথ্য হালনাগাদ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের আরেক নাম “মোল্লা হাজি” এবং হেদায়াতুল্লাহ বদরীর আরেক পরিচয় “গুল আগা ইশাকজাই” হিসেবে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত মাসে ইমারাতে ইসলামিয়ার ২২ জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হয় এবং নিষেধাজ্ঞা তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্তি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বর্তমানে তালিকায় ৩০ জনের বেশি ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে সিরাজউদ্দিন হক্কানী, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মাওলানা আবদুস সালাম হানাফী এবং আবদুল হক ওয়াসিকও রয়েছেন। তবে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের আমীরুল মু’মিনীন মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এখনো তালিকার বাইরে রয়েছেন।
জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত এবং সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক এই নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর মেয়াদ সম্প্রতি আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে ইমারাতে ইসলামিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সর্বশেষ এই হালনাগাদ প্রক্রিয়াগত হলেও, এটি ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতৃত্বের ওপর চলমান আন্তর্জাতিক চাপকে আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকীর সফরও রয়েছে। এতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে—সে বিষয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আরিয়ানা নিউজ
হাআমা/
