৩৬ নিউজ ডেস্ক:: অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক কসরত না করা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা, হজমে সাহায্য করা এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিভার প্রতিদিন করে থাকে।
সকালে উঠে মোবাইল নিয়ে সময় নষ্ট না করে মাত্র ৫টি সহজ অভ্যাস রপ্ত করলেই লিভারকে আজীবন সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, লিভার ভালো রাখতে সকালের শুরুটা হওয়া চাই নিয়মতান্ত্রিক। চলুন, জেনে নিই নিয়মগুলো কী।
দিনের শুরু হোক হালকা গরম পানি দিয়ে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস হালকা গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
দীর্ঘ সময় পর শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি এটি পরিপাকতন্ত্র সচল করে এবং লিভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে দেয় না।
লেবু-পানিকে ‘না’ বলুন অনেকে লিভার ডিটক্স করার জন্য খালি পেটে লেবু-পানি বা অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খান। তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সবার শরীরে এটি সহ্য হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে এর ফলে বুক জ্বালা, গ্যাস বা অ্যাসিডের সমস্যা হতে পারে।
তাই শুধু গরম পানি পান করাই যথেষ্ট। সময়মতো সকালের নাস্তা ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালে না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন কিংবা বেলা করে নাস্তা করেন। এই অভ্যাস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। ঘুম থেকে ওঠার ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে সকালের নাস্তা সেরে ফেলা উচিত। বেশি সময় খালি পেটে থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ে, যা সামলাতে লিভারকে দ্বিগুণ খাটতে হয়।
সকালে উঠেই খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এটি হজমপ্রক্রিয়া নষ্ট করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে লিভারের ক্ষতি করে। তাই সকালে গরম পানি খাওয়ার পর হালকা কিছু মুখে দিয়ে তবেই চা-কফি খাওয়া উচিত।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সরাসরি প্রভাব পড়ে লিভারের ওপর। ঘুম থেকে উঠেই ফোনে অফিসের মেইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘাটলে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। তাই দিনের শুরুতে তাড়াহুড়ো না করে কিছুটা সময় শ্বাসের ব্যায়াম বা যোগাসন করুন, যাতে মন শান্ত থাকে।
পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, বড়দের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যেও ছোটবেলা থেকে এই সুস্থ জীবনশৈলীর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। তবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লিভারের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
এনআর/
