দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে অটোরিকশাগুলো পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের উন্নয়ন ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, সরকার অটোরিকশাগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে একজন গণমাধ্যমকর্মী ঢাকা শহরে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার ফলে বিদ্যুৎ অপচয় ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি উত্থাপন করলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে আমাদের ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের (ইভি) দিকেই যেতে হবে। যেহেতু সবার পক্ষে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা সম্ভব নয়, তাই অটোরিকশার মতো যানবাহনগুলোকে উৎসাহিত করা আমাদের মূল নীতি হওয়া উচিত। কারণ ভবিষ্যৎ পৃথিবী ইলেকট্রিক যানবাহনের দিকেই যাচ্ছে। তবে এই যানবাহনগুলোর যান্ত্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অটোরিকশাগুলো বর্তমানে মেকানিক্যালি পুরোপুরি সেফ নয় এবং এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এই বিষয়গুলো সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ওপর চাপের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান ফুয়েল ক্রাইসিসের সময়ে এই যানবাহনগুলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। সাধারণত এই রিকশাগুলো পিক আওয়ারে চার্জ দেওয়া হয় না; গভীর রাতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে, তখনই এগুলো চার্জ করা হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। তবে কোনো রকম মিটার ছাড়া বা বিল না দিয়ে চার্জ দেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করেন না তিনি। তিনি জানান, দ্রুতই এই খাতকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার অটোরিকশার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। সেখানে যানবাহনের মান, নিরাপত্তার মাপকাঠি এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। এই নীতিমালা কার্যকর হলে অটোরিকশা ব্যবস্থাপনা একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আসবে এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
টিএইচএ/
