দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা আর যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে গতকাল শনিবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম গাজার কোনো অংশে নির্বাচনী আমেজ দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের গণহত্যা এবং অবরোধের মধ্যে এই নির্বাচন ঘিরে ফিলিস্তিনিদের রয়েছে তীব্র হতাশা ও সংশয়।
বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামাল্লাহভিত্তিক কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনি অঞ্চলজুড়ে ১০ লাখেরও বেশি ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পশ্চিম তীর ছাড়াও মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ভোট গ্রহণ চলছে। হামাস সরাসরি প্রার্থী দিতে না পারলেও দেইর আল-বালাহতে একটি প্যানেলকে তাদের সমর্থিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্তৃত্ব স্বীকার করার বাধ্যবাধকতা থাকায় হামাসসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই নির্বাচন বয়কট করেছে। ফলে পশ্চিম তীরের অনেক এলাকায় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ আন্দোলন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে রয়েছে। ৯৩টি গ্রাম কাউন্সিল ও ৯০টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলে ভোট হলেও ৪২টি মিউনিসিপ্যালিটি এবং ১৫৫টি গ্রামে একক প্রার্থী থাকায় সেখানে ভোটের প্রয়োজন পড়ছে না।
গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেইর আল-বালাহ শহরকে নির্বাচনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহ এলাকায় হামাস নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীকে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে।
হতাশ পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ আর অনাহারের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। দেইর আল-বালাহতে ভোট দিয়ে মোহাম্মদ আল-হাসাইনা নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘এই ভোট আমাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছার প্রতীক। আমরা চাই বিশ্ব আমাদের এই যুদ্ধের ভয়াবহ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুক।’
পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের ব্যবসায়ী মাহমুদ বদর হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘এখানে মূল শাসন তো ইসরায়েলি দখলদারদের হাতে। এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য স্রেফ একটা প্রদর্শনী ছাড়া আর কিছুই নয়; যেন দেখানো যায় আমাদের রাষ্ট্র বা স্বাধীনতা আছে।’
এর আগে ২০০৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে হামাসের অভাবনীয় জয়ের পর ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০০৭ সালে ফাতাহ গাজা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তা আজও বিদ্যমান। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই স্থানীয় নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার বড় সুযোগ।
এনআর/
