ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখতে এবং লেবাননের মাটিতে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনে বাধা দিতে হিজবুল্লাহ তাদের আশির দশকের সেই ভয়ংকর রণকৌশলে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গোষ্ঠীটি তাদের ‘আত্মঘাতী স্কোয়াড’ পুনরায় সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে হিজবুল্লাহর এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামরিক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে লেবাননের অভ্যন্তরে ঘাঁটি গড়তে কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া হবে না। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে হিজবুল্লাহ তাদের পুরনো কৌশল অবলম্বন করবে। ওই নেতা জানান, পূর্ব-পরিকল্পিত ছক অনুযায়ী বর্তমানে অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে বিপুল সংখ্যক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী মোতায়েন করা হয়েছে। এই হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অধিকৃত লেবাননের গ্রামগুলোতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা ও সৈন্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো।
হিজবুল্লাহর এই কঠোর সামরিক ঘোষণার বিপরীতে লেবানন সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানও আজ স্পষ্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার আগে একটি টেকসই ‘যুদ্ধবিরতি’ অপরিহার্য। মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদেরও এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একদিকে প্রেসিডেন্ট যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর এই আত্মঘাতী যুদ্ধের ঘোষণা লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনাকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আত্মঘাতী হামলার এই কৌশল যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণহানি ও সহিংসতার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
টিএইচএ/
