বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টির থাবা। রাজধানী নয় কেবল, দেশজুড়ে চলছে বৃষ্টি খেলা। থেমে থেমে চলছে বজ্রপাতও। আমরা জানি, প্রথম ম্যাচের রোমাঞ্চ এখনো টাটকা। সেই জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়েই বুধবার আবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, লক্ষ্য একটাই-জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করা। চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। সে পর্যন্ত আকাশ কেমন আচরণ করে সেটাই দেখার বিষয়।
প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে মানসিক সুবিধা। এখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে স্বাগতিকরা। আজ জিততে পারলেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়বে টাইগাররা। অন্যদিকে সফরকারীদের সামনে এটি টিকে থাকার ম্যাচ। হারলেই সিরিজ হাতছাড়া।
এখন বৃষ্টি ভেন্যু শহর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ঘটনা। গতকালও দেখা গেছে শহরের অনেক রাস্তা ডুবে গেছে। গরম কমেছে কিন্তু বৃষ্টি জীবন যাত্রা অনেক জায়গায় আটকে দিয়েছে। আবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটফিল্ডও নাজুক। বৃষ্টি আজ ফের নেমে এসেছে, তাইতো এখানে খেলা চালানোটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকছেই!
সিরিজের প্রথম লড়াইয়ে শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে তোলে ১৮২ রান। জবাবে রান তাড়ায় নেমে ৭৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকেই ম্যাচের গল্প বদলে দেন তাওহিদ হৃদয়।
হৃদয় প্রথমে পারভেজ হোসেন ইমনকে সঙ্গে নিয়ে ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন। এরপর শামীম হোসেনকে নিয়ে মাত্র ২১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রান যোগ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। হাতে তখনও ছিল ১২ বল।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে হৃদয় ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে ম্যাচসেরা হন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। ইমন ১৪ বলে ২৮ এবং শামীম ১৩ বলে ৩১ রান করে ম্যাচে গতি এনে দেন।
ম্যাচ শেষে হৃদয় জানান, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল এবং তিনি পরিস্থিতি বুঝেই আক্রমণাত্মক খেলেছেন। তাঁর মতে, সে সময় দ্রুত রান প্রয়োজন ছিল বলেই ঝুঁকি নিতে হয়েছে।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মোট ৯টি ছক্কা হাঁকান, যা ম্যাচের বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক নিক কেলিও সেটিই স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বড় শট খেলার সক্ষমতাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
পরিসংখ্যান অবশ্য এখনো নিউজিল্যান্ডের পক্ষেই। টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের ২১ দেখায় বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ৫টিতে, নিউজিল্যান্ডের জয় ১৫ ম্যাচে। একটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
২০২১ সালে নিজেদের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র সিরিজ জয়। আজ সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করার সুযোগ।
বাংলাদেশ দলে স্পিন শক্তি এবারও বড় ভরসা। মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদের সঙ্গে প্রয়োজনে সাইফ হাসান ও শামীম হোসেনও হাত ঘুরাতে পারেন। চট্টগ্রামের উইকেটে স্পিনারদের ভূমিকা তাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আজকের ম্যাচে জয় এলে সিরিজ বাংলাদেশের, আর নিউজিল্যান্ড জিতলে সিদ্ধান্ত যাবে ২ মে মিরপুরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে। তাই চট্টগ্রামের বিকেলটা শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, এটি হতে পারে একটি সিরিজ নির্ধারণের দিন।
