যমজ বোন বাবা দুই

by naymurbd1999@gmail.com

৩৬ নিউজ ডেস্ক :: যমজ বোন হলেও বাবা একজন নয়, দু জন। ডিএনএ’র পরীক্ষায় জানা গেল লোমহর্ষক এই বর্ণনা। যমজ বোন মিশেল ওসবোর্ন এবং লাভিনিয়া ওসবোর্ন-এর গল্পটি প্রথমে শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। একই মায়ের গর্ভে, একই সময়ে বেড়ে ওঠা, জন্মের ব্যবধান মাত্র কয়েক মিনিট তবুও তাদের বাবা আলাদা। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় হেটেরোপ্যাটার্নাল সুপারফিকানডেশন। এটি একটি বিরল জৈবিক প্রক্রিয়া, যার উদাহরণ বিশ্বজুড়ে হাতে গোনা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর। এক সাধারণ দিনের মতোই ইমেইল খুলেছিলেন লাভিনিয়া। সেখানে ছিল ঘরে বসে করা একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল। কিন্তু ফলাফলটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি। কারণ সেই রিপোর্ট জানিয়ে দেয় তিনি ও তার যমজ বোন মিশেল একই বাবার সন্তান নন।

বিজ্ঞাপন
banner

এই সত্য মেনে নেওয়া সহজ ছিল না। শৈশব থেকেই অনিশ্চয়তায় ভরা জীবনে তারা বারবার স্থান পরিবর্তন করেছেন। কখনো এক বাড়ি, কখনো অন্য বাড়ি, কখনো পরিচর্যাকারীর কাছে।

লাভিনিয়া বলেন, ‘সে-ই ছিল আমার একমাত্র নিশ্চিত জিনিস আর হঠাৎ করে সেটাও বদলে গেল।’

অন্যদিকে মিশেলের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমি খুব অবাক হইনি বিষয়টা অদ্ভুত, বিরল তবুও কোনোভাবে যেন ঠিক মনে হয়েছে।’

১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহাম শহরে তাদের জন্ম দেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী মা। তার নিজের জীবনও ছিল অস্থিরতায় ভরা। সৎ বাবার নির্যাতন, ফস্টার কেয়ার ও শিশু নিবাসে বেড়ে ওঠা। যমজরা যখন বাবার পরিচয় জানতে চাইত, মা বলতেন তার নাম জেমস। কিন্তু সেই মানুষটি কখনোই তাদের জীবনের অংশ ছিলেন না।

মা নিজেও ছিলেন অনেকটা দূরের মানুষ। পাঁচ বছর বয়সে মেয়েদের রেখে তিনি লন্ডনে পড়তে চলে যান। নটিংহামে এক আত্মীয়ের কাছে বড় হতে থাকে দুই বোন, যাকে তারা ‘দাদি’ বলে ডাকত। দাদি ছিলেন কঠোর, আবেগহীন।

লাভিনিয়া বলেন, আমার একমাত্র স্থিরতা ছিল মিশেল। মিশেলের ভাষায়, ‘আমরা যেন দুজন মিলে পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’

দশ বছর বয়সে তারা মায়ের কাছে লন্ডনে গেলেও, কিছুদিনের মধ্যেই আবার পাঠিয়ে দেওয়া হয় অন্য ফস্টার পরিবারে। কেন মা তাদের থেকে দূরে থাকতেন এই প্রশ্নের উত্তর তারা কখনো পায়নি।

কৈশোরে জেমস নামে পরিচিত ব্যক্তি আবার তাদের জীবনে ফিরে আসেন। লাভিনিয়া তার মধ্যে নিজের ছায়া খুঁজে পান। কিন্তু মিশেলের মনে সংশয় থেকেই যায়। সময়ের সঙ্গে সেই সন্দেহ আরও গভীর হয়। ২০২১ সালে তাদের মা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হলে আর কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব ছিল না। তখনই মিশেল সিদ্ধান্ত নেন ডিএনএ পরীক্ষা করার।

২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের মা মারা যান আর সেদিনই আসে পরীক্ষার ফল। তাতে দেখা যায়, জেমস মিশেলের বাবা নন। এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান। ধীরে ধীরে মিশেল জানতে পারেন, তার প্রকৃত বাবা অ্যালেক্স। তিনি তার মায়ের এক বান্ধবীর ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং গৃহহীন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছিলেন।

মিশেল নতুন আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অলিভাইন নামের এক নারীর সঙ্গে দেখা করেন, যাকে তিনি নিজের কাজিন বলে মনে করেন।

মিশেল বলেন, ‘আমি বুঝেছিলাম, সে আমার রক্তের মানুষ।’

কিন্তু লাভিনিয়ার মনে সেই সংযোগ তৈরি হয়নি। বরং তার মধ্যে অস্বস্তি বাড়তে থাকে। অবশেষে তিনিও ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলাফল দেখে তিনি ভেঙে পড়েন। কারণ সেখানে স্পষ্ট হয়ে যায়, তার যমজ বোন আসলে তার সৎ বোন।

লাভিনিয়া বলেন, ‘আমি এটা চাইনি। এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চাইনি।’

পরবর্তীতে এক সাক্ষাতে আর্থারের কাছে মিশেল ও লাভিনিয়া জানতে চান তাদের জন্মের পেছনের গল্প। আর্থার জানান, একদিন তাদের মা তার কাছে এসেছিলেন ভীষণ ভেঙে পড়া অবস্থায়। তিনি নিরাপদ ছিলেন না, আতঙ্কিত ছিলেন। তবে ঠিক কী ঘটেছিল, তা আর জানা সম্ভব নয়, কারণ তাদের মা আর বেঁচে নেই।

অন্যদিকে মিশেলও তার বাবা অ্যালেক্সের সঙ্গে দেখা করেন। মিশেল বলেন, ‘তিনি তখন মাদকের প্রভাবে ছিলেন। তবে চেহারার মিল স্পষ্ট ছিল। আমি জানতাম, তিনি আমার বাবা। কিন্তু তাকে আমার ভবিষ্যতের অংশ করতে চাইনি।’

তাদের এই ভিন্ন পিতার কথা তাদের মা কখনো বুঝতে পেরেছিলেন কি না এ প্রশ্নের উত্তর অজানা। লাভিনিয়া বলেন, ‘হয়তো তিনি অনুভব করতেন।’ মিশেলের মতে, ‘মনের ভেতরে হয়তো জানতেন, কিন্তু মানতে চাননি।’

একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফল এই যমজ দুই বোনের সম্পর্ককে এমন প্রশ্নের মুখে ফেললেও, শেষ পর্যন্ত তা ভাঙতে পারেনি। পার্থক্যগুলো স্পষ্ট হয়েছে, কিন্তু বন্ধন অটুটই থেকেছে।

‘আমরা অলৌকিক,’ বলেন লাভিনিয়া। মিশেল হাসতে হাসতে বলেন, ‘সে আমার যমজ বোন এটা কোনো কিছুই বদলাতে পারবে না।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222