ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে ঘর ছেড়েছিলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘমারা গ্রামের এক কিশোর ও সিলেটের ওসমানীনগরের এক কিশোরী। লক্ষ্য ছিল আদালতের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। তবে আইনি বাধ্যবাধকতায় শেষ পর্যন্ত বিয়ের বদলে এই যুগলের ঠাঁই হয়েছে থানা হেফাজতে।
বুধবার (০৬ মে) সকালে সুনামগঞ্জ আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন ওই কিশোর ও কিশোরী। তবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান যে, বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য ছেলেদের ন্যূনতম ২১ বছর এবং মেয়েদের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই শর্ত পূরণ না হওয়ায় আইনজীবী তাদের বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে আদালত চত্বর থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই কিশোর-কিশোরীর পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করে তাদের অভিভাবকদের সন্ধান করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় আইনজীবী তাদের থানা হেফাজতে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। অভিভাবকদের পাওয়া গেলে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রচলিত বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে করা বা বিয়ের আয়োজন করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
টিএইচএ/
