শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র ও মৃত্যুর তথ্য আড়ালের চেষ্টা করেছিলেন সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ওই সময় একাত্তর টেলিভিশনে ‘সমীকরণ’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পরপরই একাত্তর টেলিভিশনে ফারজানা রুপার করা ওই প্রতিবেদনে এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যে, সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনাই ঘটেনি। প্রতিবেদনে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির একটি সাক্ষাৎকার ছিল এবং এর পেছনে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। যেখানে সারা দেশব্যাপী একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটল, সেখানে বিতর্কিত কিছু মানুষের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছিল, যা ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাপলা চত্বরের প্রকৃত সত্য গোপন করার ক্ষেত্রে মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার ভূমিকা ছিল অনন্য। তাদের এই কর্মকাণ্ড ছিল একটি ‘সিস্টেমেটিক অ্যাটাক’ বা পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন, কারণ তাদের প্রচারিত তথ্যে কোনো সত্যতা ছিল না। এই মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সাংবাদিক ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করে প্রসিকিউশন।
ইতোমধ্যেই ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। আদালত আগামী ১৪ মে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে জানান, তদন্তে সংশ্লিষ্টতা ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা হবে। শাপলা চত্বরের সেই রাতের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে ট্রাইব্যুনাল বদ্ধপরিকর বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
টিএইচএ/
