ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদ ও মোহাম্মদপুরে মাদক সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মোহাম্মদপুরস্থ কওমি মাদ্রাসাসমূহের ঐক্যবদ্ধ ফোরাম ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া। সোমবার (১১ মে) মোহাম্মদপুর টাউন হল চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম ও বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওরানা মামুনুল হক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ কুটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। তাদের একজন দাসীকে এদেশের ক্ষমতায় বসিয়েছিল। এদেশের মানুষ তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।
তিনি বলেন, এরপর এদেশের মানুষ আশা করেছিল একটি জনগণের সরকার হবে। অন্য অনেক জায়গায় অনেকটা উন্নত হলেও মোহাম্মদপুরের ভাগ্য খারাপ। মোহাম্মদপুরের মানুষের উপর একজন দুর্বল চিত্তের বহিরাগত মানুষকে বসিয়ে দিয়ে এ এলাকাকে সন্ত্রাসের আস্তানায় পরিণত করেছে। সন্ধ্যার পর এ অঞ্চল একটি ভূতুরে রাজ্যে পরিণত হয়। প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব। যদি অপরাধীরা গণরোষের শিকার হয় তার দায় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরে যে এমপি নিয়োগ দিয়েছেন তিনি সরাসরি ব্যর্থ হয়েছেন। তাই মোহাম্মদপুরের জণগণের প্রতি বিশেষ নজর দিন। ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫ আর ঢাকা-১১ আসনের মত ঢাকা-১৩ কেও নিজের আসন মনে করে এ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ নজর দিন।
ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পশ্চিম বঙ্গ ও আসাম থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাগরিকত্ব বাতিল করে বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, সীমান্তে কঠোর পাহারা বসান। রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কঠোর কুটনৈতিক বার্তা প্রেরণ করুন। বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তা রুখতে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াহিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জুবায়ের, বায়তুল জান্নাত মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি ওমর ফারুক।
মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ বলেন, আজ সারাদেশে মোহাম্মদপুর আতংকের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মিডিয়ায় কিছু দিন পরপর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গার ছিনতাই খুনের সংবাদ আসে। কিছুদিন আগে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানার একটি বক্তব্য মিডিয়ায় এসেছে। তিনি বলেছেন, যাদেরকে সাথে নিয়ে চাঁদাবাজি আর ছিনতাই বন্ধ করতে চান, খোঁজ নিয়ে জানা যায় তারাই তাদের গডফাদার। যদি এটাই বাস্তব হয় তাহলে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করুন। আমরা মোহাম্মদপুরের লোক। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির সমাজ চাই।
তিনি আরো বলেন, সীমান্তহত্যা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় খুন ধর্ষণ চলছে। মোহাম্মদপুর সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিকে সংবিধানের ক্লাস নিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যার্থতার দায় নিয়ে তাকে পদত্যাগ করা উচিত।
হাআমা/
