আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা তদারকির জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি সরবরাহ রুটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, নবগঠিত সংস্থাটির নাম রাখা হয়েছে ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) বা পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ।
এতে আরও বলা হয়, নতুন এই সংস্থাটি হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক কার্যক্রম, নৌ-নিরাপত্তা ও কৌশলগত তদারকি এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক (রিয়েল-টাইম) আপডেট প্রদান করবে।
ইতোমধ্যে এক্সে পিজিএসএ-এর একটি অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে এবং সেখান থেকে করা প্রথম পোস্টে একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার (১৮ মে) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে তার দেশ ওমানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, যেহেতু হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমান, এই দুটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত, তাই এখানে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াকে উভয় দেশই নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে।
বাঘেই জোর দিয়ে আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার তাৎপর্য কেবল ইরান, ওমান বা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই পথ দিয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান সর্বদা ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে এবং এখানকার পারাপার অবশ্যই সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে সর্বোত্তম উপায়ে সম্পন্ন হতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল-গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এতে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের দামও অনেক বেড়ে গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
