১৪২ কোটির দেশে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন মোদি-ঘনিষ্ঠরা

by Abid vs36

১৪২ কোটি মানুষের দেশ ভারত; বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র। তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব থাকা সত্ত্বেও, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহযোগীরা এখন জন্মহারের পতন ঠেকাতে দম্পতিদের বড় পরিবার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দশক পর্যন্ত ভারতের জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে এবং তা প্রায় ১৭০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তবে দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক ও হিন্দু সংগঠন মনে করছে, ছোট পরিবার থেকে সরে এসে এখনই বেশি সন্তান নেওয়ার প্রবণতা উৎসাহিত করা উচিত এবং এর জন্য প্রয়োজনে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া দরকার।

বিজ্ঞাপন
banner

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট প্রজনন হার (টিএফআর), অর্থাৎ একজন নারীর গড়ে সন্তানের সংখ্যা, ১৯৯২-৯৩ সালে ৩.৪ থেকে কমে ২০১৯-২১ সময়ে ২-এ নেমে এসেছে। নারীদের শিক্ষা বৃদ্ধি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ায় এই হার কমেছে বলে সরকারি মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে ২.১ হার প্রয়োজন বলে মনে করে সরকার। এই পরিস্থিতিতে মোদি-সমর্থিত জোটশাসিত অন্ধ্র প্রদেশ সরকার সপ্তাহান্তে ঘোষণা দিয়েছে, তৃতীয় সন্তান জন্ম দিলে এককালীন ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ২৫ হাজার রুপি সহায়তার প্রস্তাব ছিল, তবে প্রথম সন্তানের জন্য কোনও আর্থিক সহায়তা রাখা হয়নি। তবে কবে থেকে এই পরিকল্পনা কার্যকর হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে বয়োবৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে আমরা ব্যাপকভাবে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে আমরা সন্তানদের সম্পদ হিসেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। একইভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট রাজ্য সিকিমও পরিবারগুলোকে আরও বেশি সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। এর জন্য তারা এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (আইভিএফ) জন্য আর্থিক সহায়তার মতো বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং তুরস্ক তাদের জন্মহার খুব বেশি মনে করে তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের মধ্যে এই দেশগুলো তাদের নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় এবং জন্মহার বাড়াতে নতুন নীতিমালার প্রচার শুরু করে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222