মেহেরপুরের বামন্দী পশুর হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা, বেশি চাহিদা মাঝারি গরুর

by Masudul Kadir

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মেহেরপুর গাংনী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী পশুর হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই হাটটি ঐতিহ্য বহন করে আসছে মেহেরপুর জেলার। এই পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা গরুর দড়ি ধরে আছে ক্রেতাদের আশায় আর ক্রেতারা কোরবানির জন্য খুঁজছে নিজের পছন্দমতো গরু, ছাগল ও ভেড়া। জেলার চাহিদা পূরণ করে কোরবানি পশু রাজধানী ঢাকাসহ চলে যায় বিভিন্ন জেলায়। আর এই মুহূর্তে পশু বিক্রির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে খামারি ও বাড়িতে পশু পালনকারীরা। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাঝারি গরুগুলোর।

কৃষকের বাড়িতে দু-একটি করে লালন-পালন হলেও খামারে রয়েছে অনেক গরু-ছাগল-ভেড়া। অনেক কৃষক শখের বসেই পারিবারিকভাবেই মহিষ পালন করে থাকে। গাংনীতে বেশ কয়েকটি ছাগল ও ভেড়ার বাণিজ্যিক খামার থাকলেও পারিবারিক খামারেও ছাগল ও ভেড়া বেশি পালিত হচ্ছে। বসতবাড়িতে দু-একটি গরু পালন করা প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক পরিবারের। সারা বছর গরু পালনের পর এখন এসেছে বিক্রয়ের সময়। গরু বিক্রির টাকায় মিটবে পরিবারের আর্থিক চাহিদা। বাড়তি অর্থ দিয়ে আবারও গরু কিনবে। এভাবেই চলে গরু পালনকারী পরিবারগুলো।

বিজ্ঞাপন
banner

গতকাল সোমবার বিকেলে গাংনী উপজেলার বামন্দী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণে কোরবানির পশু উঠেছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভিড় লক্ষ করা গেছে। মাঝারি ধরনের গরু সবচেয়ে বেশি বিক্রয় হতে দেখা গেছে।

গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, গাংনী উপজেলায় কোরবানিযোগ্য গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রয়েছে। উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পশুর। বাকি পশু ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে।

গরু খামারি হাড়িয়াদহের মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সন্তানের মতো পরম আদর যত্ন ও মমতায় গরু লালন-পালন করি। গরুকে বিচালি, ঘাস, ভুট্টা, খৈলসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। কোনো প্রকার কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। ইতিমধ্যে তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে। তিনটি গরু প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা হয়েছে। আরও তিনটা আছে সাড়ে আট লাখ টাকা পর্যন্ত বলছে। ভালো দাম না পেলে বিক্রয় করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার খামারিদের বিনা সুদে লোন দিলে বেকার যুবকেরা এ পেশায় এগিয়ে আসবে। বেকারত্ব দূর করার ব্যাপারে গরু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের দেশে যাঁরা বেকার আছেন, তাঁরা যদি গরু পালন করে তাহলে পরিবারের বোঝা হতে হবে না। পরিবারের হাল ধরার জন্য গরু পালন করা উচিত।’

খামারি মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পারিবারিক খামারে গরু পালন করেছি। কোরবানির জন্য পশুগুলো বিক্রি করে দেব। এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে কোরবানির পশু নিয়ে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সহযোগিতা করছেন পশু পালনে। গরুর খাদ্যের দাম বেশি ও তীব্র গরমে পশু পালন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বামন্দী পশুর হাটে গরু নিয়ে এসেছি, ভালো দাম পেলে বিক্রি করে দেব।’

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222