৩৬নিউজ ডেস্ক: দেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সাআদ বিন জাকির। বিচারহীনতা ও মামলা চাপা পড়ে যাওয়ার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান এই ছাত্রনেতা।
বৃহস্পতিবার ফরিদপুর সদর উপজেলার খবালপুর মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাআদ বিন জাকির বলেন, আজ দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একটি ঘটনার বিচার শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি নির্মম ঘটনা সামনে আসছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক ঘটনায় প্রথমদিকে তীব্র আলোচনা হলেও পরে সেগুলো ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। এই নেতিবাচক সংস্কৃতিই অপরাধীদের মনে আইন ও শাস্তির ভয়হীনতা তৈরি করছে। মাগুরায় শিশু আছিয়া হত্যা, সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা, ঠাকুরগাঁওয়ে লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা কিংবা মুন্সীগঞ্জে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনাগুলো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। তবে জনগণ এখন দেখতে চায়, এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের বিচার কত দ্রুত এবং দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত করা হয়।
তিনি সামাজিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, শিশুরা আজ শুধু বাইরে নয়, অনেক সময় নিজেদের পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয়। এটি মূলত সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশু সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সাথে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোই যথেষ্ট নয়, বরং শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা অর্থের কারণে পার পেয়ে না যায়, তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে ছাত্র জমিয়তের এই নেতা বলেন, শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের প্রতি কোনো ধরনের নরম অবস্থান প্রদর্শন করা হলে ভবিষ্যৎ সমাজ আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠবে। বক্তব্যের শেষে তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও পরিবারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
টিএইচএ/
