আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুদ্ধ থাকলে ধীরে ধীরে অনেক কিছু থমকে যায়। এবার সৌদি আরবও নিল নতুন সিদ্ধান্ত। কাজ ভালো চললেও, লাভ হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে রিয়াদ। পশ্চিমা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চুক্তি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। কিছু চলমান প্রকল্পের অর্থপ্রদানও পিছিয়ে দিয়েছে—যদিও দেশটির তেল রপ্তানি আয় সাম্প্রতিক সময়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির পরই নতুন পরামর্শক চুক্তি স্থগিত করা হয়। তবে সৌদি সরকার দাবি করেছে, তারা কোনো ধরনের বিল পরিশোধ বন্ধ করেনি।
একজন নির্বাহী জানিয়েছেন, চালানের কিছু অর্থপ্রদান দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষ পর্যন্ত—অর্থাৎ জুন মাস পর্যন্ত—স্থগিত রাখা হয়েছে।
তেল রাজস্বে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি : সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশটির তেল রপ্তানি আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৪.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সংক্রান্ত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে সৌদি আরব এখনো বাজেট ঘাটতির মুখে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও রপ্তানি পরিস্থিতি : পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে কার্যত উত্তেজনা ও অবরোধ পরিস্থিতির কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে সৌদি আরব তাদের বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।
দেশটির ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দিয়ে হরমুজ এড়িয়ে রপ্তানি নিশ্চিত করছে। বর্তমানে সৌদি আরব তার পূর্বযুদ্ধ রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ঘাটতি ও ব্যয় বৃদ্ধি : তেল আয়ের বৃদ্ধি সত্ত্বেও সৌদি সরকারের বাজেট ঘাটতি প্রথম প্রান্তিকে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে সরকারি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। সামরিক ব্যয়ও ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল জদ্দান জানিয়েছেন, অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারকে ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে।
