ডিজিটাল স্কেল ছাড়াই ফিতা দিয়ে মেপে বের করুন গরুর ওজন

by Abid vs36

পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলো এখন জমজমাট। তবে হাটে গরু কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাই দ্বিধায় পড়ে যান। বাজারে অসংখ্য গরুর ভিড়ে হুট করে বুঝে উঠতে পারেন না যে, কাঙ্ক্ষিত গরুটি কিনে তিনি জিতছেন নাকি ঠকছেন। তবে আধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল স্কেল ছাড়াও চাইলে আপনি খুব সহজে একটি সাধারণ ফিতা দিয়ে মেপে গরুর লাইভ ওয়েট বা জীবন্ত ওজন বের করে ফেলতে পারেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে গরুর ওজন ও সেই গরুতে কতটুকু মাংস পাওয়া যাবে, তা অল্প সময়ের মধ্যেই হিসাব করে নেওয়া সম্ভব।

গরুর ওজন ফিতা দিয়ে মাপার সবচেয়ে প্রচলিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো বুকের বেড় এবং শরীরের দৈর্ঘ্য মেপে হিসাব করা। দেশের গ্রামীণ হাট-বাজারসহ উন্নত বিশ্বের খামারিদের মাঝেও এই পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ফিতা দিয়ে ওজন মাপার জন্য মূলত দুটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হয়। প্রথম ধাপে মাপতে হবে গরুর বুকের বেড়। গরুর সামনের দুই পায়ের ঠিক পেছন দিয়ে বুক ঘিরে ফিতা দিয়ে গোলাকার পরিমাপ নিতে হবে, যাকে প্রাণিসম্পদের ভাষায় ‘হার্ট গার্থ’ বা বুকের বেড় বলা হয়। দ্বিতীয় ধাপে মাপতে হবে শরীরের দৈর্ঘ্য। এক্ষেত্রে গরুর কাঁধের সম্মুখভাগ বা অগ্রবর্তী হাড় থেকে শুরু করে পেছনের লেজের গোড়া পর্যন্ত ফিতা দিয়ে সোজা মাপ নিতে হবে। ইঞ্চি ফিতায় এই দুটি পরিমাপ নেওয়ার পর একটি সহজ গাণিতিক সূত্রের সাহায্যে ওজন বের করা যায়।

সূত্রটি হলো: গরুর মোট ওজন (কেজি) = (বুকের বেড় $\times$ বুকের বেড় $\times$ শরীরের দৈর্ঘ্য) $\div$ ৬৬০।

ধরা যাক, হাটে আপনার পছন্দ হওয়া একটি গরুর বুকের বেড় ৬০ ইঞ্চি এবং শরীরের দৈর্ঘ্য ৪৭ ইঞ্চি পাওয়া গেল। সূত্র অনুযায়ী হিসাবটি হবে— প্রথমে বুকের বেড় দুইবার গুণ করতে হবে, অর্থাৎ ৬০ $\times$ ৬০ = ৩,৬০০। এবার এই ফলের সাথে শরীরের দৈর্ঘ্য গুণ করতে হবে, অর্থাৎ ৩,৬০০ $\times$ ৪৭ = ১,৬৯,২০০। সর্বশেষে প্রাপ্ত এই সংখ্যাটিকে ৬৬০ দিয়ে ভাগ দিতে হবে, অর্থাৎ ১,৬৯,২০০ $\div$ ৬৬০ = ২৫৬.৩৬৩। এর অর্থ হলো, নির্দিষ্ট ওই গরুটির আনুমানিক মোট জীবন্ত ওজন ২৫৬ কেজি। এটি হচ্ছে গরুর ‘লাইভ ওয়েট’ বা সামগ্রিক ওজন। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ গরুর মোট ওজনের সাধারণত ৫৫ থেকে ৫৮ শতাংশ খাওয়ার উপযোগী মাংস পাওয়া যায়। বাকি অংশ চামড়া, হাড় ও অন্যান্য বর্জ্যের মধ্যে পড়ে। সেই হিসাবে ২৫৬ কেজি ওজনের ওই গরুটিতে খাওয়ার উপযোগী নিট মাংস পাওয়া যাবে প্রায় ১৪১ কেজি। এর সাথে গরুর চার পা, কলিজা ও ভুঁড়ির ওজন মেলালে মাংসের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়বে।

বর্তমানে বাজারে শুধু বুকের মাপ দিয়ে ওজনের আনুমানিক হিসাব বের করার জন্য বিশেষ ধরনের ‘ক্যাটল ওয়েট টেপ’ বা পরিমাপক ফিতাও পাওয়া যায়, যেখানে বুকের বেড় মাপার সাথে সাথে ফিতাতেই সরাসরি কেজি বা ওজনের পাঠ দেখা যায়। তবে ফিতা দিয়ে গরুর নিখুঁত পরিমাপ নেওয়ার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মাপ নেওয়ার সময় গরুকে অবশ্যই সমতল স্থানে সোজা ও শান্ত অবস্থায় দাঁড় করাতে হবে। ফিতা দিয়ে মাপার সময় তা যেন খুব বেশি টাইট বা অতিরিক্ত ঢিলা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া গরুকে প্রচুর খাবার বা পানি খাওয়ানোর পরপরই মাপ নিলে ওজনে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। অভিজ্ঞ খামারিদের মতে, ডিজিটাল স্কেল মেশিনে গরুর ওজন মাপা সহজ হলেও সেখানে কারচুপির ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় বিক্রির আগে গরুকে অতিরিক্ত লবণ-পানি বা খাবার খাইয়ে সাময়িকভাবে ওজন বাড়িয়ে রাখা হয়। কিন্তু ফিতা দিয়ে মাপলে পেটের ভেতরের অতিরিক্ত খাবারের কারণে ওজনে তেমন প্রভাব পড়ে না। ফলে এই পদ্ধতিতে সামান্য কমবেশি হতে পারলেও ক্রেতার ঠকে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222