যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতিক্ষিত শান্তি চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখনো ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার জোরালো আশাবাদ তৈরি হওয়ায় সোমবার তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছিল এবং শেয়ার ও বন্ড বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। মার্কিন প্রশাসন একদিকে যখন শান্তি আলোচনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর নতুন করে প্রতিরক্ষামূলক হামলাও চালিয়েছে।
বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কবে নাগাদ পুনরায় উন্মুক্ত হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এশিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে শর্ত অনুযায়ী, মূল শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার অন্তত ৩০ দিন পর এই প্রণালি চালু করা সম্ভব হবে।
এই সময়ের মধ্যে ইরানকে সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণ করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি নেওয়া বন্ধ করতে হবে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের খসড়া পরিকল্পনা সাময়িকভাবে বাজারকে চাঙ্গা রাখলেও মূল শান্তি চুক্তি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তাতে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য্য যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা অসম্ভব হওয়ায়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক স্টক মার্কেটগুলোতে বড় ধরনের পতন ঘটতে পারে।
হাআমা/
