ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের দাবি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে আজান ও পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা মুসলিম জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুর বাসস্ট্যান্ডে এক বিশাল মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১ জুন) রাত ৯টায় শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার দফতরে সংগঠনটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে কোরআন তেলাওয়াত ও আজানের মতো ইসলামের পবিত্র বিষয়গুলোকে হারমোনিয়াম, বাদ্যযন্ত্র ও বাউল গানের সঙ্গে একই প্রসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সভায় বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও আজান মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এসব বিষয়কে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক বা সংগীত উপাদানের সঙ্গে তুলনা বা একই প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
কওমি ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে উক্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রুমিন ফারহানাকে দায়িত্বশীল আচরণ ও বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনমতের প্রতি আরও সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশিত। এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে সভা থেকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন কওমি ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আযম কাসেমী। এতে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহাদ্দিস মুফতি মারুফ কাসেমী, মুফতি শরীফ উদ্দিন আফতাবী, মাওলানা আব্দুল হাফিজ, মুফতি আব্দুর রাকিব, মাওলানা ইউসুফ ভূঁইয়া, মাওলানা জুনাইদ কাসেমী, মুফতি এরশাদুল্লাহ কাসেমী, মুফতি যুবাইর সাইফুল্লাহ, মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ, মাওলানা সৈয়দ কাসেম, মাওলানা ইফতিখার জামীল, মাওলানা ইকরামুল মারজানসহ কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
