৩৬নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বিদ্যালয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনের উদ্যোগ এবং একে কেন্দ্র করে মূলধারার কিছু গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফ্রেমিংয়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ। একই সাথে সচেতন জনতার যৌক্তিক প্রতিবাদের মুখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিনেমা প্রদর্শন স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে তারা।
আলেম সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো চলচ্চিত্রের সেন্সর সার্টিফিকেট থাকা মানেই তা পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করার লাইসেন্স নয়। সিনেমা দেখার জন্য নির্দিষ্ট প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে, কিন্তু একটি বিদ্যালয় স্রেফ জ্ঞানার্জন ও পাঠদানের পবিত্র স্থান, যা কোনো বাণিজ্যিক সিনেমা হলের বিকল্প হতে পারে না। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করে এমন যে কোনো আয়োজন প্রতিহত করার পূর্ণ অধিকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের রয়েছে।
আলেমদের অভিযোগ, দেশের কিছু প্রথম সারির গণমাধ্যম পুরো ঘটনাটিকে ‘কওমি শিক্ষার্থীদের বাধায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ’ শিরোনামে প্রচার করছে, যা একটি চরম মিথ্যাচার এবং সুপরিকল্পিত ন্যারেটিভ ফ্রেমিং। অথচ এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলের সাধারণ শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। মিডিয়ার এই চতুর শিরোনামের মূল উদ্দেশ্য হলো, জনমানসে এই ধারণা তৈরি করা যে, ইসলামপন্থীদের উৎপাতে দেশে প্রগতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে মিডিয়ার এই বিভাজনের রাজনীতি ও ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর অপচেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে তারা মনে করেন।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু অ্যাক্টিভিস্ট কওমি মাদরাসার অভ্যন্তরীণ কিছু বিচ্ছিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে কওমি সমাজকে নিশ্চুপ ও অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখানোর নোংরা খেলায় মেতেছেন। আলেম সমাজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তারা কখনোই অপরাধীর পরিচয় দেখে অপরাধের বিচার করে না এবং অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। এরই ধারাবাহিকতায় মহিলা ও আবাসিক মাদরাসাগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলেম সমাজ ইতিপূর্বেই কঠোর ১০ দফা দাবি ও দিকনির্দেশনা পেশ করেছে, যা তাদের আত্মসংশোধন ও অপরাধ দমনের প্রতি আপসহীন অঙ্গীকারের প্রমাণ। অথচ মূলধারার মিডিয়া আলেমদের এই ইতিবাচক ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপগুলোকে সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে কেবল নেতিবাচক ফ্রেমিং করছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সাধারণ আলেম সমাজের পক্ষ থেকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, অবিলম্বে হলুদ সাংবাদিকতা, আংশিক সত্য পরিবেশন এবং আলেম সমাজকে ভিলেন বানানোর পরিকল্পিত মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে যেন বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনীর নামে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না করা হয়, সে বিষয়ে স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, নতুন বাংলাদেশে ছাত্র-শিক্ষক এবং আলেম সমাজের মধ্যে কৃত্রিম দূরত্ব ও বিভক্তি তৈরির যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসলামের আদর্শ ও জাতীয় সংস্কৃতির সুরক্ষায় যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের বিরুদ্ধে আলেম সমাজ ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
টিএইচএ/
