আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্কুল ও কলেজগুলিতে শিক্ষার্থীদের হিজাবসহ অন্যান্য প্রচলিত ধর্মীয় পোষাক পরিধানের অনুমতি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছে, তার প্রতিবাদে ভারতের কর্ণাটক জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছে বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করার লক্ষ্যে রাজ্যব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে শ্রী রাম সেনা এবং অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের মাঝে গেরুয়া উত্তরীয় বা শাল বিতরণ করতে শুরু করেছে। গত রবিবার থেকে এই অভিযানটি শুরু হয়েছে, যেখানে হুব্বলি এবং কর্ণাটকের অন্যান্য অংশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে এই গেরুয়া উত্তরীয় বিতরণ করেন সংগঠনের কর্মীরা।
সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরিধানের অনুমতি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিবাদ নথিভুক্ত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে তোষণ রাজনীতির শামিল এবং এই নীতি ক্যাম্পাসগুলিতে ধর্মীয় বিভাজনকে পুনরায় উস্কে দিতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে যে, এই গেরুয়া উত্তরীয় অভিযান আগামী দিনগুলিতে সমগ্র রাজ্য জুড়ে অব্যাহত থাকবে; যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক পরিধান নিয়ে তৈরি হওয়া সেই পুরনো বিতর্ককে আবারও পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কর্ণাটকে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। স্কুল ও কলেজগুলিতে শিক্ষার্থীদের হিজাব, পৈতে, শিবধারা এবং রুদ্রাক্ষের মতো ধর্মীয় প্রতীক পরিধানের অনুমতি দিয়ে কর্ণাটক সরকার একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ শুরু হলো। এই নতুন আদেশের মাধ্যমে মূলত পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের ২০২২ সালের সেই নির্দেশিকাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো, যা হাইপ্রোফাইল হিজাব বনাম গেরুয়া উত্তরীয় বিতর্কের পর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করেছিল।
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া গত সপ্তাহে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, এই নতুন নীতির অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেরুয়া উত্তরীয় পরিধানের অনুমতি দেওয়া হবে না। এরপরই এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধে। তিনি জানিয়েছিলেন, হিজাব, পাগড়ি, রুদ্রাক্ষের মালা এবং পৈতের মতো ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা প্রচলিত ধর্মীয় প্রতীকগুলি পরিধানের অনুমতি বজায় থাকবে। বিজেপি এই স্পষ্টীকরণের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তোষণ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতিগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং এটাই সঠিক পদ্ধতি।
টিএইচএ/
