৩৬ নিউজ ডেস্ক :: ২০২৬ সালের হজব্রত পালনের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হাজির সেবায় অসাধারণ ব্যবস্থাপনার নজির স্থাপন করেছে সৌদি আরব। হজের গুরুত্বপূর্ণ সময় ১ থেকে ৮ জিলহজ পর্যন্ত আট দিনে মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে ৬৪০ কোটি লিটারের বেশি পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
সৌদি ওয়াটার অথরিটি এবং মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির বিষয়ক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত এ বিশাল কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজিদের জন্য সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
হজ মৌসুমের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাজিদের পানীয় সেবার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পবিত্র জমজমের পানি। শুধু মসজিদুল হারামেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬২২ ঘনমিটার (১৬ লাখ ২২ হাজার লিটার) জমজম পানি ব্যবহার করা হয়।
হাজিদের নিরবচ্ছিন্নভাবে জমজম পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মসজিদুল হারামে ১৬৯টি পানির ফোয়ারা এবং ১৪ হাজার ৮৯২টি জমজম পানি বিতরণকারী কনটেইনার স্থাপন করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন ২১ লাখের বেশি জমজম পানির কাপ মুসল্লি ও হাজিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ‘ইয়াওমুত তারওয়িয়াহ’-তে পানির চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। এ দিনে পবিত্র স্থানগুলোতে প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা হয়, যা বিপুল সংখ্যক হাজির চলাচল ও প্রয়োজন পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
পানির নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ৭০টি নিরাপত্তা ও গুণগত মান পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ জমজম পানি প্রকল্প আধুনিক স্বয়ংক্রিয় বোতলজাতকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে হজের ব্যস্ত সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ পাঁচ লিটারের জমজম পানির বোতল উৎপাদন করে।
এছাড়া জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগকারী হাজিরা পাসপোর্টপ্রতি সরকার অনুমোদিত পাঁচ লিটারের একটি জমজম পানির বোতল ক্রয় করে সঙ্গে নিতে পেরেছেন।
সূত্র: সৌদি গেজেট
