৩৬ নিউজ ডেস্ক:: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন চার শিশু ও চার নারীসহ ১২ জন আটকে পড়া মানুষ।
এ ঘটনায় শনিবার সকালে প্রাগপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা এবং প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান অংশ নেন। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানীনগর বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার সুনীল কুমার যাদব।এ সময় বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটেলিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিজিবি কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না।
বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার ভোরেও প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
ওই ঘটনার পর বিজিবির আহ্বানে শুক্রবার বিকালে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে বিএসএফ উপস্থিত হয়নি। পরে শনিবার সকালে দুই বাহিনীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পাটক্ষেতে বন্দি জীবন
এদিকে, শনিবার সকালেও ওই ১২ জনকে সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি পাটক্ষেতে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তারা শুক্রবার রাতে খোলা আকাশের নিচেই কাটিয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু।
দিনের তীব্র গরমের পর পুরো রাত খোলা আকাশের নিচে কাটাতে গিয়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আটকে পড়া এই মানুষগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।
এনআর/
