আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দ্বন্দ্বের পথ পরিহার করে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানকে আরও বেশি সমঝোতামূলক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম-এফ (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, গঠনমূলক আলোচনা ও সম্পৃক্ততার ওপরেই এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে।
পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, অন্যান্য আঞ্চলিক বিরোধের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ যে ধরনের কূটনৈতিক নীতি ও মধ্যস্থতার কথা বলে, আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এড়াতে আঞ্চলিক পর্যায়ে যে ধরনের মধ্যস্থতা ও সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়, পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গেও পাকিস্তানের তেমন সংলাপ ও সমঝোতার পথ খোঁজা উচিত বলে তিনি যুক্তি দেন।
পাকিস্তানের এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক সামরিক শক্তি প্রয়োগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নিরাপত্তা কৌশলের সমালোচনা করেন। আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা এবং ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা আদৌ কমানো গেছে কিনা—সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নীতিনির্ধারকদের বর্তমান কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
ফজলুর রহমানের মতে, একটি স্থিতিশীল আফগানিস্তান কেবল আফগানদের জন্যই নয়, বরং পাকিস্তানের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্যও একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা। সীমান্তের ওপারে অস্থিরতা বজায় থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো অঞ্চলেই পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বক্তব্যে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংকটকালীন মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রতি আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক সমর্থনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন জেইউআই-এফ প্রধান।
তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক ফ্রন্টে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা গেলে এই চাপ অনেকটাই কমে আসবে এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ, ডুরান্ড লাইন ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, তার প্রেক্ষাপটেই ফজলুর রহমান এই মন্তব্য করলেন। সূত্র: আরিয়ানা নিউজ
হাআমা/
