নিজস্ব প্রতিবেদক:: ইসলামী ছাত্র ফোরাম বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কেন্দ্রীয় দাঈ সম্মেলন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ জুমা আয়োজিত এই সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল, সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ দ্বীনি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “দাওয়াতি কাজ পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ও সুদূরপ্রসারী কাজ। এটম পাওয়ারের চেয়েও এর প্রভাব বহুদূর বিস্তৃত। কারণ দাওয়াত মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনে; এমনকি প্রতিপক্ষের শক্তিকেও নিজের আদর্শের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে। তাই পৃথিবীর বড় বড় পরিবর্তন ও সাফল্যের পেছনে দাওয়াতি কাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য।”

তিনি আরও বলেন, ইসলাম যেমন দাওয়াতের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি প্রতিপক্ষও দাওয়াত ও প্রচারণার মাধ্যমে তাদের চিন্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে যে পক্ষের দাওয়াতি কার্যক্রম যত বেশি সুসংগঠিত, জ্ঞানভিত্তিক ও যুক্তিনির্ভর, তাদের অগ্রযাত্রাও তত বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। ছাত্রসমাজকে জ্ঞানার্জন ও তারবিয়াতের মাধ্যমে দাওয়াতের ময়দানে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশের বরেণ্য আলেমে দ্বীন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা জুনায়েদ গুলজার, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা রেজওয়ান রফিকী, মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ সোহরাব, মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুখতার, মুফতি আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা আবু সায়েম মোহাম্মদ খালেদ এবং মাওলানা আবুল কাশেম।

সম্মেলনে বক্তারা বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছাত্র ও তরুণ সমাজের মাঝে দ্বীনের সঠিক দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দাঈদের জন্য গভীর জ্ঞানার্জন, আত্মশুদ্ধি, উত্তম চরিত্র অর্জন এবং সুসংগঠিতভাবে কাজ পরিচালনা করার পরামর্শ দেন তারা।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী ছাত্র ফোরাম বাংলাদেশ ‘তালিম, তারবিয়াত ও দাওয়াহ’—এই তিন মূলনীতিকে সামনে রেখে তরুণ ও ছাত্রসমাজের মাঝে কাজ করে আসছে। সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে দাওয়াতি কার্যক্রমকে সারাদেশে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
