কাতারের উপহারের বিমানকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বানালেন ট্রাম্প

by Masudul Kadir

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বেশ কিছু দিন পর হলেও কাতার সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিমানটি এখন থেকে প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ বহর ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সামনে জমকালো এক আয়োজনের মাধ্যমে বিমানটি প্রদর্শন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের আরেকটি বিমান কখনো হবে না; এটি সত্যিই অনন্য।’

ট্রাম্পের ভাষায়, এটি কোনো সাধারণ উপহার নয়, বরং এটি একটি ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’।

মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য বলেছে, বিমানটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি ডলার (৪০০ মিলিয়ন ডলার)। এটি সংস্কারে মার্কিন প্রশাসনের আরও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মতো ব্যয় হয়েছে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মিশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যাপক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আগের মালিকানার কারণে বিমানে নিরাপত্তা ঝুঁকি পরীক্ষা করে তা পুরোপুরি ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কিছু পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে অংশ নেবে।

বিবিসি জানিয়েছে, বিমানটির ভেতরের মূল সাজসজ্জায় তেমন পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে ঐতিহ্যবাহী ক্যানেডি আমলের হালকা নীল (রবিনস এগ ব্লু) রঙ পরিবর্তন করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ট্রাম্পের পছন্দের গাঢ় নেভি ব্লু রঙের সাথে লাল ও সোনালি স্ট্রাইপ দেওয়া হয়েছে। বিমানের লেজে রয়েছে বিশাল মার্কিন পতাকা এবং এক পাশে প্রেসিডেন্টশিয়াল সিল। আর ভেতরে রয়েছে দামি চামড়ার সিট, বিলাসবহুল কার্পেট, কাঠের নিখুঁত প্যানেলিং এবং আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা।

মূলত, ২০২৫ সালের মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে কাতার ভ্রমণের সময় কাতারের রাজপরিবার বিমানটি তাকে উপহার দেয়। ২০২৫ সালের ২১ মে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব এই উপহার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

সমালোচকদের অভিযোগ, এত উচ্চমূল্যের উপহার গ্রহণ স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি সাংবিধানিক প্রশ্নও উত্থাপন করে। এমনকি ট্রাম্পের কিছু সমর্থকরাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কাতারের সাথে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর তীব্র কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্পের অবস্থান কাতারের বিপক্ষে গেলেও পরে কাতার মার্কিন লবিং এবং বিনিয়োগ বাড়িয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার সাথে শুরুতেই অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি যেন কাতারের পক্ষে থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলগত উপহার দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “যে জিনিস বিনামূল্যে পেয়ে দেশের করদাতাদের কোটি কোটি ডলার বাঁচানো যাচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করা হবে চরম ‘বোকামি’।”

এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর এই বিলাসবহুল বিমানটি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হবে না, বরং এটি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222