মার্কিন বন্দিদের মুক্তি দিলে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের পথ সুগম হতে পারে—সম্প্রতি কাবুল সফরে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন জিম্মি বিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোহলার। তবে অতীতের মতো দ্রুত ওয়াশিংটনের অনুরোধ না মেনে এবার ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ বা পারস্পরিক বিনিময়ের নীতিতে জোর দিচ্ছে তালেবান সরকার। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে সাংবাদিক তাহির খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি কাবুলে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তালেবানের ঊর্ধ্বতন নেতাদের বৈঠকে সম্পর্কের ‘নতুন সূচনা’র আভাস মিলেছে। বৈঠকে মার্কিন পক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি দিলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অগ্রগতি হতে পারে। এর মধ্যে আফগানিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে তালেবান নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, বিনিময় ছাড়া তারা কোনো ছাড় দেবে না। তাদের প্রধান দাবি—গুয়ান্তানামো বে’র কুখ্যাত মার্কিন কারাগারে আটক একমাত্র আফগান নাগরিক মোহাম্মদ রহিমের মুক্তি। গত মার্চে নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র রহিমকে মুক্তি দিতে সম্মত হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। এবার বোহলার নাকি আশ্বাস দিয়েছেন, রহিমকে কাতারে স্থানান্তর করা হবে; তবে কিছু বিধিনিষেধ বজায় রাখতে চায় ওয়াশিংটন।
বোহলারের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেছে। দূত বন্দি ইস্যুটিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করলেও তাৎক্ষণিক কোনো মুক্তি মেলেনি।
তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কে একজন দূত রাখার অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের প্রথম তালেবান শাসনামলে এমন একটি প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালেবান সরকার চীন, ইরান, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ব্রিটেনের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলারের খনিজ চুক্তি করেছে। উত্তরাঞ্চলের তাখার, বাদাখশান, সামাঙ্গানের পাশাপাশি ঘোর, হেরাত, কান্দাহার, নানগারহারসহ বিভিন্ন প্রদেশে সোনা, তামা, লোহা, সিসা ও দস্তা উত্তোলনের পরিকল্পনা চলছে। মার্কিন বিনিয়োগের ইঙ্গিত সে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বোহলারের উভয় কাবুল সফরেই সঙ্গে ছিলেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও কাবুল ও কান্দাহারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগের প্রধান সেতু হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ২০২০ সালের দোহা চুক্তির অন্যতম রূপকার খলিলজাদ বর্তমানে দ্বিমুখী চ্যানেল হিসেবে কাজ করছেন—একদিকে মার্কিন অবস্থান পৌঁছে দিচ্ছেন, অন্যদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার সুযোগ বিস্তৃত করছেন।
স্মরণ করা যেতে পারে, এখন পর্যন্ত কেবল রাশিয়াই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে মরিয়া কাবুলের জন্য ওয়াশিংটনের এই সম্পৃক্ততা তাই কূটনৈতিক অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
হাআমা/
