আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করতে ব্রাসেলসে তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপে অবস্থানরত যেসব আফগান নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে, তাদের নির্বাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য তালেবান প্রতিনিধিদলকে পাঁচটি ভিসা দিয়েছে বেলজিয়াম। প্রায় পাঁচ বছর আগে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রথম তালেবান প্রতিনিধিদের ইইউ-এর সদর দপ্তরে কোনো বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলো।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কঠোর নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর সোমবার এই পাঁচটি ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে, যার মেয়াদ থাকবে মাত্র একদিন। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি দেশের এই ব্লকে আফগানিস্তান থেকে অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়েছে তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার জন্যই তালেবান কর্মকর্তাদের এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন তালেবান প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি ইইউ। কারণ, তালেবানের অনেক শীর্ষ নেতার ওপরই বর্তমানে ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো মূলত এমন ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর উপায় খুঁজছে যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি। রয়টার্সের দেখা তালেবান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বলখির কাছে পাঠানো এক চিঠিতেও দেখা গেছে, বৈঠকের মূল ফোকাস থাকবে ইউরোপে থাকার অধিকার না থাকা আফগান নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া। তবে ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই বৈঠকের অর্থ এই নয় যে ব্রাসেলস আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আফগানিস্তান বিষয়ক গবেষক ফেরেশতা আব্বাসি এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা ও জবাবদিহিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া নয়। অন্যদিকে, ইইউ-এর অভিবাসন বিষয়ক প্রধান ম্যাগনাস ব্রুনার এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, অবৈধভাবে আসা আফগানদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তালেবান সরকারের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া ব্রাসেলসের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
গত এক দশকে প্রায় ১০ লাখ আফগান নাগরিক ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। ইউরোপজুড়ে ডানপন্থীদের উত্থান ও অভিবাসনবিরোধী জনমতের কারণে এখন নীতি কঠোর করা হচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অবশ্য এই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, বর্তমানে আফগানিস্তানে গভীর মানবিক সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা চলছে, যা মানুষের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
