আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তেল আবিব এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের শর্ত মেনে চলতে এবং যুদ্ধাবসান ঘটিয়ে অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়ে আলোচনার পথ সুগম করতেই মূলত ইসরায়েলের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৩’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সেনা অভিযানের একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী কেবল সরাসরি হুমকি মোকাবিলায় ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমানার মধ্যে কাজ করতে পারবে। তবে বৈরুত বা টায়ারের মতো দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একজন উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তা মার্কিন প্রশাসনের কঠোর বার্তার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমরা আমেরিকানদের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা পেয়েছি যে, এতদিন আপনাদের কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করার অধিকার ছিল, তবে এখন সেই সুযোগ শেষ হয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আগের বিবৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের সুরক্ষায় লেবাননে অবাধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে তাদের।
ইসরায়েলি দৈনিক ‘মাআরিভ’ জানিয়েছে, লেবানন ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন লেবানন পরিস্থিতিকে হরমুজ প্রণালী, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট থেকে দেখছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অন্যদিকে ইসরায়েল মনে করছে, লেবানন থেকে আগাম সেনা প্রত্যাহার করলে তা তাদের দুর্বলতা হিসেবে প্রকাশ পাবে এবং হিজবুল্লাহর জন্য পুরষ্কার হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৮ জুন ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সই হওয়া মার্কিন-ইরান চুক্তি কার্যকর হয়, যার একটি প্রধান শর্ত হলো লেবাননের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।
লেবানন সীমান্তের এই উত্তেজনার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। ‘চ্যানেল ১৩’ এর তথ্যমতে, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সোমবার রাতে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় এই মুহূর্তে বড় কোনো অভিযানের অনুমোদন দেবেন না এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শন করতে পারেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল প্রতিনিয়ত সেখানে বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
