বিভিন্ন ফল, বিভিন্ন পুষ্টিগুণ
প্রতিটি ফলের পুষ্টিগুণ এক নয়। কোনো ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকে, আবার কোনোটি ভিটামিন এ, পটাশিয়াম বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল রাখা উপকারী। তবে সব ধরনের ফল একসঙ্গে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফল খেয়েও একই ধরনের পুষ্টিগত সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
একসঙ্গে বেশি ফল খেলে কী হতে পারে?
এ ছাড়া ফলের খাদ্যআঁশ হজমে সহায়ক হলেও অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণ করলে পেটব্যথা, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা হতে পারে।
ফলের সংমিশ্রণ নিয়ে কী জানা যায়?
অনেকের ধারণা, টক ও মিষ্টি ফল একসঙ্গে খেলে হজমে সমস্যা হয়। তবে এ বিষয়ে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুব সীমিত। অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফল একসঙ্গে খাওয়া নিরাপদ। তবে ব্যক্তিভেদে সংবেদনশীলতা ভিন্ন হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট ফলের সংমিশ্রণে অস্বস্তি হলে সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
ডায়াবেটিস থাকলে ফল খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে ফলের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। আম, কলা, আঙুর, লিচু বা কাঁঠালের মতো তুলনামূলক বেশি মিষ্টি ফল একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ফল নির্বাচন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
ফলের সালাদ কি স্বাস্থ্যকর?
সঠিকভাবে তৈরি করা ফলের সালাদ একটি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত ৩ থেকে ৫ ধরনের মৌসুমি ফল দিয়ে তৈরি সালাদ যথেষ্ট উপকারী। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, মিষ্টি দই বা কৃত্রিম স্বাদবর্ধক যোগ না করাই ভালো।
বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। একবারে অনেক ধরনের ফল খাওয়ার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন সময়ে পরিমিত পরিমাণে ফল খাওয়া অনেকের জন্য বেশি সুবিধাজনক। এতে শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং হজমতন্ত্রের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
এ ছাড়া স্থানীয় ও মৌসুমি ফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, পেঁপে, জাম, আনারস, কলা, কমলা ও ডালিমের মতো ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, একসঙ্গে একাধিক ফল খাওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ ও ভারসাম্য। একবারে অতিরিক্ত ফল খাওয়ার বদলে পরিমিত পরিমাণে এবং বৈচিত্র্য বজায় রেখে ফল খাওয়াই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, পাশাপাশি হজমজনিত অস্বস্তির ঝুঁকিও কম থাকে।
সূত্র: বিবিসি, হার্ভার্ড হেলথ, মায়ো ক্লিনিক
টিএইচএ/