আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১০ বছরব্যাপী সংস্কারকাজ শেষ হলেও লন্ডনের ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্রাসাদে আর স্থায়ীভাবে থাকবেন না ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। রাজপরিবারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি আগের মতোই কাছের ক্ল্যারেন্স হাউসেই বসবাস করবেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এর মাধ্যমে প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। রানি ভিক্টোরিয়া ১৮৩৭ সালে সিংহাসনে বসার পর থেকে বাকিংহাম প্রাসাদ ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রধান লন্ডন আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তবে প্রাসাদটি রাজপরিবারের প্রধান কার্যালয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রাজা লন্ডনে অবস্থান করলে প্রাসাদের ছাদে রাজকীয় পতাকা উড়বে।
রাজা চার্লসের কোষাধ্যক্ষ (কিপার অব দ্য প্রিভি পার্স) জেমস চ্যালমার্স বলেন, বাকিংহাম প্রাসাদ রাজতন্ত্রের সদর দপ্তর হিসেবেই থাকবে। এটি আমাদের জাতীয় স্থাপনাগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রাসাদটির সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৯ মিলিয়ন পাউন্ড। পুরোনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, পাইপলাইন ও গরম করার প্রযুক্তি আধুনিকায়নের জন্য এই সংস্কার করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, রাজা চার্লস প্রাসাদে ব্যক্তিগত কক্ষ রাখবেন, যা প্রয়োজন হলে থাকার জন্য ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৭ লাখ দর্শনার্থী বাকিংহাম প্রাসাদ পরিদর্শন করেন। ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত কর পরিশোধের তথ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর দিয়েছেন, যা তাকে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ১০০ করদাতার একজন করেছে।
ব্রিটিশ আইনে রাজা আয়কর, মূলধনী লাভ কর বা উত্তরাধিকার কর দিতে বাধ্য নন। তবে রাজা চার্লস স্বেচ্ছায় কর দিয়ে আসছেন। তার মা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও একই নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
রাজপরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাজা হওয়ার পর থেকে চার্লস ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি কর দিয়েছেন। তিনি ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টারসহ বিভিন্ন সম্পদ ও বিনিয়োগ থেকে ব্যক্তিগত আয় পান।
রাজপরিবারের ব্যয়ের জন্য সরকার যে অর্থ দেয়, তা ‘সোভেরেইন গ্রান্ট’ নামে পরিচিত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ অনুদানের পরিমাণ ১৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে তা কমিয়ে ১০ কোটি পাউন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজপরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে। রাজতন্ত্রবিরোধী সংগঠন রিপাবলিকের প্রধান গ্রাহাম স্মিথ বলেন, নতুন তথ্য প্রকাশের পরও রাজপরিবারের অর্থব্যবস্থা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, রাজা চার্লস ও প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ দুজনেই ২০১৯ সালের পর থেকে বাকিংহাম প্রাসাদে নিয়মিত রাতযাপন করেননি।
