আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারে একচেটিয়া ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তার এবং নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে ১২৬ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪৪ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফ্রান্সের একটি আদালত। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লো ফিগারো’ এবং সংবাদ সংস্থা ‘প্রিজমা মিডিয়া’ সহ বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলায় সোমবার এই রায় দেওয়া হয়। এই মামলার বিষয়ে অবগত একটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এবং বিশেষায়িত সংবাদ মাধ্যম ‘মাইন্ড মিডিয়া’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্যারিসের অর্থনৈতিক আদালত বা ‘কোর্ট অব ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটিজ’ এর রায় অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘প্রিজমা মিডিয়া’ গ্রুপকে ৬১ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার), দৈনিক ‘লো ফিগারো’কে ২৬ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার), ‘লেজিকো লো পারিজিয়ান’ গ্রুপকে ১১.৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার) এবং ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ‘ডেইলিমোশন’কে ২৭.৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩১ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এএফপি জানায়, সংশ্লিষ্ট ফরাসি গণমাধ্যমগুলো প্রাথমিকভাবে গুগলের কাছে মোট ৫৭০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল। অন্যদিকে, মার্কিন এই টেক জায়ান্ট আদালতের দেওয়া এই চারটি রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
গুগলের মুখপাত্র আদালতের এই রায় প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে জানান, তারা আদালতের এই সিদ্ধান্তগুলোর সাথে একমত নন। তাদের দাবি, এই ক্ষতিপূরণের নির্দেশ ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে, যে খাতটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। অপরদিকে, ‘লো ফিগারো’ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক ফয়ার ‘মাইন্ড মিডিয়া’কে বলেন, এর আগে ‘রুসেল’, ‘লেকিপ’ এবং ‘এম সিক্স’ এর পক্ষে আসা আদালতের রায় এবং সোমবারের এই রায়ের মধ্য দিয়ে এই সংশ্লিষ্ট আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী আইনি নজির স্থাপিত হলো।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটভিত্তিক অনুসন্ধান, ইমেল পরিষেবা এবং বিশেষ করে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজারে গুগলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ দিন ধরেই তীব্র বিতর্ক ও আইনি জটিলতা চলছে।
টিএইচএ/
