অনুবাদ: ভারতের গুজরাট রাজ্যের ভোজ জেলায় মসজিদ, দরগাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
উর্দু দৈনিক ‘দ্য ইনকিলাব’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদে এই তথ্য বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাটের সীমান্তবর্তী ভোজ এলাকায় বেশ কিছু ধর্মীয় স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদের এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক উদ্বেগ, হতাশা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানীর নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাকিমউদ্দিন কাসেমী।
জমিয়তের প্রতিনিধিদলটি জুনা কান্দলা এলাকার একটি মসজিদ পরিদর্শনে যায়। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ১৯২৫ সাল থেকে এটি ওয়াকফ বোর্ডের রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের আইনি নোটিশ ছাড়াই গত ২৯ তারিখ ভোরে বুলডোজার চালিয়ে এটি ভেঙে ফেলা হয় এবং স্থানীয়দের সেখান থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়।
পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় অন্তত ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ৭টি বাণিজ্যিক ও ২টি আবাসিক ভবন উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভোজ জেলার এই নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রায় ৩৫ শতাংশ মুসলিমের বসবাস।
জমিয়তের প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, তারা এই একতরফা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টসহ আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে লড়াই চালিয়ে যাবে। ধর্মীয় স্থান উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের যে স্পষ্ট আইনি নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন তা পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা খুব শিগগিরই ভোজ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।
অনুবাদক: তানবিরুল হক আবিদ, মুফতি, সাংবাদিক।
টিএইচএ/
