বশির আহম্মদ মোল্লা (নরসিংদী প্রতিনিধি): কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় বীজ, চারা ও সার বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে সরকারি এসব কৃষি উপকরণ তুলে দেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ বা রোপা আমন মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উন্নতমানের বীজ, চারা ও বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের এই সময়োপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত হবে এবং কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. নুরুল কবির এবং নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল হক। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও উপকারভোগী কৃষকরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, কৃষিই আমাদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এই বিশেষ সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিকে একটি লাভজনক পেশায় পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, সরকারের দেওয়া প্রতিটি প্রণোদনা যেন প্রকৃত ও মাঠপর্যায়ের কৃষকের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কারণ কৃষক সমৃদ্ধ হলে তবেই দেশ সমৃদ্ধ হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতে এই প্রণোদনা কর্মসূচির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও কৃষকদের কল্যাণে এ ধরনের সরকারি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টিএইচএ/
